চামড়া নিয়ে নতুন সংকট, নেপথ্যে কী রয়েছে

0
13

 

এবারের ঈদুল আজহায় পশুর চামড়া কেনাবেচা নিয়ে এক নজিরবিহীন সংকটে পড়তে হয়েছে চামড়া ব্যবসায়ীদের। ঈদের দিন বিকেলের মধ্যে সাধারণত পশুর চামড়া চলে যায় ব্যবসায়ীদের কাছে। কিন্তু এবারে হয়েছে তার ব্যতিক্রম। দেশের বিভিন্ন স্থানে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পশুর চামড়া মাটিতে পুতে বা রাস্তার ধারে ফেলে রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছে। খবর: বিবিসি বাংলা

এদিকে রোববার (১৮ আগস্ট) সংকট মেটাতে চামড়ার আড়তদার এবং ট্যানারি মালিকদের সাথে বৈঠকে হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। সেখানে আড়তদাররা আগামীকাল থেকে ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে রাজি হয়েছে।

কিন্তু এবারের ঈদে চামড়া নিয়ে কেন এমন সংকট তৈরি হল? এর নেপথ্যে কি রয়েছে?

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছে সরকার নির্ধারিত যে দাম বেধে দিয়েছিল, তারচেয়ে অনেক কম দামে কিনতে যেয়ে নি:স্ব হতে হয়েছে তাদের।

চামড়ার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলছিলেন ট্যানারি মালিকদের কাছে কয়েকশ কোটি টাকা পান তারা। ফলে এসব ট্যানারি মালিকরা পাওনা টাকা দেয়ায় চামড়া ব্যবসায়ীরা নতুন করে চামড়া কিনতে পারেননি।

এবার ঈদের আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি ব্যবসায়ীদের। ছাগলের চামড়ার ক্ষেত্রে দাম বেধে দেয় সরকার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন যেহেতু এখানে মুক্তবাজার। তাই সরবরাহের উপর ভিত্তি করে তারা চামড়া কেনাবেচা করে থাকেন। কিন্তু এবারের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে কিনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।

ট্যানারি মালিকদের উপর বকেয়া পরিশোধ না করার যে অভিযোগ উঠেছে এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ ফিনিস্ড লেদার, লেদার গুডস এন্ড ফুটওয়ার এক্সপোর্টাস এসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ট্যানারির মালিক টিপু সুলতানের সাথে।

তিনি বলেছেন, ২০১৫ সাল থেকে ট্যানারি মালিকদের কাছে যে চামড়া মজুদ রয়েছে সেটা রপ্তানি করতে পারেনি। এখন নতুন চামড়া কিনে কি করবে!একই সাথে লালবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে সাভারে ট্যানারি পল্লী তৈরি করা হচ্ছে সে কারণে ট্যানারি মালিকদের টাকার ঘাটতি রয়েছে। সে কারণে অনেকেই পাওনা টাকা দিতে পারেনি।