ঘোড়শালে কৃষক লীগের ত্রি-বাষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

0
382

নিউজ ডেস্কঃ   কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এই ধারাবাহিকতা অব্যহিত রেখে ঝিনাইদহ সদর ১৪ নং ঘোড়শাল ইউনিয়ানে কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জুলাই ২০১৮ রোজ সোমবার ঝিনাইদহ সদর ১৪ নং ঘোড়শাল ইউনিয়াধীন রবি নারিকেল বাড়ীয়া জেড, এ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রভাত রঞ্জন বিশ্বাস এর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য জনাব এ্যাডভোকেট আব্দুর রশীদ, বিষেশ অতিথি জনাব মোঃ সাজেদুল ইসলাম সোম সভাপতি ঝিনাইদহ জেলা কৃষক লীগ, জনাব মোঃ পারভেজ মাসুদ লিল্টন চেয়ারম্যান ১৪ নং ঘোড়শাল ইউনিয়ন, জনাব নিত্য গোপাল শিকদার সভাপতি ১৪ নং ঘোড়শাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, জনাব রণজিত কুমার বিশ্বাস সাধারন সম্পাদক ১৪ নং ঘোড়শাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, উদ্ভোধক জনাব মোঃ শফি উদ্দীন আহমেদ মিন্টু সভাপতি সদর উপজেলা কৃষক লীগ ঝিনাইদহ, প্রধান বক্তা জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান তোতা সাধারন সম্পাদক সদর উপজেলা কৃষক লীগ ঝিনাইদহ, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ সদস্য অলিম্পিক মিয়া।

ত্রি-বাষিক সম্মেলন বক্তরা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাংলাদেশের স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে ১৯ এপ্রিল এদেশের খেটে খাওয়া কৃষক মুজুরীদের জন্য বাংলাদেশ কৃষকলীগ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য এসেছে ও  দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় জাতিসংঘের পুরস্কার লাভ করেছে। তাই কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগে গ্রহণ করেছে।

কৃষক লীগ কৃষকদের সংগঠিত করে তাদের দাবি আদায়সহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সরকারের সারসহ কৃষি উপকরণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১৮ জন কৃষক এবং ২০০৬ সালে চাপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনরত ২৪ কৃষককে গুলি করে হত্যা করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।

স্বাধীনতার পর পরই জাতির পিতা কৃষি খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার সরকার কৃষকদের কল্যাণে ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকদের খাজনা মওকুফ করে দিয়েছিলেন। তিনি উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ, উন্নত বীজ, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করে কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার কৃষক ও কৃষিবান্ধব সরকার।

আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ মেয়াদে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলো। পরবর্তীকালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বাংলাদেশকে আবারো খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে। আওয়ামী লীগ সরকার কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও বহুমুখীকরণ, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করেছে। পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তনে সহনশীল ফসলের জাত, প্রযুক্তি ও কৌশল উদ্ভাবনের ফলে দেশের কৃষি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

দেশের কৃষিখাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রায় ৪ কোটি টনে উন্নীত হয়েছে। এখন বিদেশে চাল রপ্তানি করা হচ্ছে। দেশের কৃষি খাতে সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে কৃষক লীগের তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রয়েছে।কৃষক লীগ ১৯৮৫ সাল থেকে দেশব্যাপী ১লা আষাঢ় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে আসছে। বাংলাদেশ কৃষক লীগের নেতাকর্মীগণ কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আরো বেশি আত্মনিয়োগ করবেন এবং ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে ভূমিকা রাখবেন বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সফল রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে চলমান উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য উপস্থিত কৃষক-জনতার প্রতি সবিনয় অনুরোধ করেন।

সভাপতি আব্দুল আওয়াল ও সাধারন সম্পাদক মোঃ হেদায়েত হোসেন নির্বাচিত হয়।