সাভারে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারধর-লুটপাটের অভিযোগ

0
8

 

সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে আসামির পরিবারের সদস্যদের মারধর, লাঞ্ছিত ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি ইতোপূর্বে মামলা বাদ দেওয়ার কথা বলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ পরিবারটির।

শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত ৮ টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের গুমাইল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আতিকের ভাই মজিদ অভিযোগ করে বলেন, শনিবার রাত ৮ টার দিকে তার ভাই আতিককে সাদা পোশাকে ধরতে আসেন এসআই মনিরুজ্জামানের তিন সোর্স। এসময় তার দোকানের সামনে আতিককে ধরে ফেলে তারা। এসময় তিনি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কোন উত্তর না দিয়ে হঠাৎ আতিককে মারতে মারতে উলঙ্গ করে ফেলে সোর্সরা। তিনি বাঁধা দিতে গেলে তাকেও অনবরত মারধর করা হয়। এসময় আমার মা, চাচী, চাচাসহ স্থানীয় কয়েক জন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও লাঞ্ছিত ও মারধর করে তারা।

মজিদ আরও বলেন, এরপর এসআই মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে আমার দোকানে মাদক আছে ও আমি মাদক ব্যবসা করি এমন কথা বলে দোকানে তল্লাশি শুরু করে। এসময় দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে কিস্তির ৬৯ হাজার টাকা ও সেখানে থাকা আমার মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে যায়।

আতিকের মা মরজিনা বেগম বলেন, দুই ছেলেক মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে তিনি, দেবর হাবু ও তার স্ত্রী বাঁধা দিতে গিয়ে তাদেরও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে পুলিশের লোকজন।

তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগেও এসআই মনিরুজ্জামান তাদের বাড়িতে এসে আতিকের নাম মামলা থেকে বাদ দেয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গিয়েছে। এরপর আবারও টাকার জন্য চাপ দিলে আমরা অস্বীকৃতি জানালে সে তার সোর্সদের আজ পাঠিয়ে আমাদের নির্যাতন করেছে।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুই কনস্টেবল আমির ও রাফি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আতিককে গ্রেফতার করতে যায়। এসময় তাদেরকে বাঁধা দেয় আতিকের ভাই মজিদ ও তার স্ত্রী। এসময় আতিককে গাড়িতে তোলা হলে তার স্ত্রী আমাদের ড্রাইভারের চুল টেনে ধরে। পরে কনস্টেবল আমাকে ফোন করলে আমি সেখানে যাই এবং আসামিকে থানায় নিয়ে আসি।

আর ৬৯ হাজার টাকা ও মোবাইল লুটের বিষয়ে জানতে চাইলে তা অস্বীকার করে এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, ভাই একটু অনুরোধ রইল, দেখে লেখবেন। আমার দাবি সঠিকটা লেখা হোক। তারপর যা করার করেন।