মিন্নির বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ, ক্ষুব্ধ রিফাতের বাবা

0
17

 

বরগুনায় প্রকাশ্যে শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলার সাত নম্বর আসামি নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিনে মুক্তিতে তার বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করেছে তার স্বজনরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিন্নি মুক্তি পেয়ে নিজ বাড়িতে গেলে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে মিন্নির জামিনের আদেশ বরগুনার আদালতে পৌঁছায়। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে জামিনের আদেশের কপি কারাগারে পাঠানো হয়।এরপর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে জামিনের আদেশ বরগুনা জেলা কারাগারে পৌছালে কারা কর্তৃপক্ষ মিন্নিকে মুক্তি দেন। পরে মিন্নি তার বাবার সঙ্গে এম্বুলেন্স যোগে নিজ বাসায় যায়।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, মিন্নিকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিনের আদেশের স্বাক্ষরিত কপি দুপুর ১২ টার দিকে বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসে পৌঁছে। পরে মিন্নির পক্ষে বেলবন্ড দাখিলের অনুরোধ করা হয়। বিচারক বেলবন্ড গ্রহণ করে কারা কর্তৃপক্ষকে রিলিজ অর্ডার পাঠান। সব দাপ্তরিক কাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে কারামুক্ত হন মিন্নি।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমার মেয়ে দীর্ঘ ৪৯ দিন পর মুক্তি পাওয়াতে স্বজনরা মিষ্টি নিয়ে দেখা করতে আসেন। সেই মিষ্টি সবাইকে বিতরণ করা হয়েছে। তবে এতে আমি খুশি না । আজ যদি আমার জামাতা বেঁচে থাকতো তাহলে আমি অনেক খুশি হতাম।

মিন্নির জামিনে বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ নিয়ে রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাড়িতে শোকের মাতম আর তারা বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস করছে। এই মিষ্টি বিতরণ প্রমাণ করে আমার ছেলের হত্যাকারী মিন্নি। ওর কারণেই আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

ত ২৬ জুন শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে বরগুনার কলেজ গেটের সামনে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর ভিডিও চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে। কিন্তু মিন্নির শ্বশুর মামলার ১৮ দিন পর গত ১৩ জুলাই এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নি জড়িত এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করার পর মামলাটির তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়। পরে এ মামলায় গ্রেফতার করা হয় মিন্নিকে।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ২ জুলাই এ মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।