পাাঠাও চালক মিলন হত্যা: নিজের ভুল ও অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা

0
12

 

মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারে গভীর রাতে (২৬ আগস্ট) পাঠাও চালক মিলনকে খুন করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা সবাইকে দারুণভাবে আহত করেছে। ঘটনার ৫ দিনের মাথায় গত রোববার রাতে মিলনের খুনি সুমন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর কিছুটা স্বস্তিও মিলেছে। তিনি শতর্ক থাকলে এই হত্যাকাণ্ড থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারতেন। রাত ৩টায় রাজধানীর মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারে অনেক ওপর দিয়ে নির্জন পরিবেশে যাত্রী নিয়ে যাওয়া তার জন্য ছিল বড় ধরনের ভুল। তাও আবার চুক্তিতে। তিনি অ্যাপস ব্যবহার করেননি। কোনো দুর্বৃত্ত অ্যাপস ব্যবহার করে সাধারণত এমন ঘটনা ঘটান না। কারণ এতে ব্যক্তিগত পরিচয়ের অনেক তথ্য জমা থেকে যায়।

পাঠাও চালক মিলন হত্যা

গভীর রাতে ফ্লাইওভার পাড়ি দিচ্ছিলেন মোটরসাইকেল চালক মিলন। হঠাৎ পেছনে বসা যাত্রী তাঁর গলার ডান পাশে ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে জীবন বাঁচাতে মোটরসাইকেল ফেলে গলার কাটা অংশ চেপে ধরে দৌড় দেন তিনি। কোনো মতে ফ্লাইওভার থেকে নেমে আসেন তিনি। এ সময় দুজন পথচারী তাঁকে উদ্ধার করে টহল পুলিশের কাছে নিয়ে যায়। ততক্ষণে মিলন আর কথা বলতে পারছিলেন না। আকার-ইঙ্গিতে তিনি হিমেল নামে তাঁর এক বন্ধুর মোবাইল নম্বর পুলিশকে দেন। এরপর পুলিশের টহল গাড়িতে উঠিয়ে দ্রুত মিলনকে হাসপাতালেও নেওয়া হয়। নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া দুই সন্তানের বাবা মিলন সন্তানদের এতিম হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। সোমবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।

মো. মিলন স্ত্রী শিল্পী আক্তার, ১০ বছর বয়সী ছেলে মিরাজ ও ৫ বছরের মেয়ে সাদিয়াকে নিয়ে মিরপুরের গুদারাঘাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলায়। ঋণের টাকা শোধ করতে তিনি রাত জেগে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিস ‘পাঠাও’ চালাতেন।

খুনির মুখে মিলন হত্যার বর্ণনা

সোমবার ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন এক সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় তিনি ঘাতক নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলেন, ভুক্তভোগী মিলন ঘটনার রাতে ১০০ টাকার একটি ট্রিপ নিয়ে মালিবাগ চৌধুরী পাড়ায় এসেছিলেন। সেখানে যাত্রীকে নামিয়ে দিয়ে আবুল হোটেলের সামনে আসেন। সেখানেই তার সঙ্গে দেখা হয় ঘাতক নুর উদ্দিন সুমনের। সুমন তখন ৫০ টাকা চুক্তিতে গুলিস্তান নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সদরঘাটে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে হবে ভেবে মিলন ৫০ টাকায় গুলিস্তান যেতে রাজি হয়ে যান। আবুল হোটেলের সামনে দিয়ে ফ্লাইওভারে উঠে মালিবাগ পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছাকাছি আসার পর নুর উদ্দিন একটি দিয়াশলাই ফেলে দিয়ে মিলনকে বলে মোটরসাইকেল থামান সিগারেট ধরাবো দিয়াশলাইটা নিচে পড়ে গেছে। মিলন তখন মোটরসাইকেল থামান। আর নুর উদ্দিন পড়ে যাওয়া দিশয়ালাই মাটি থেকে তুলে নিজে মোটরসাইকেল চালানোর প্রস্তাব দেয় মিলনকে। কিন্তু মিলন তাতে রাজি হননি। এসময় তাদের মধ্যে কথা কাটিকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নুর উদ্দিন তার কাছে থাকা এন্টি কাটার দিয়ে মিলনের গলায় টান দেয়। বাঁচাও বাঁচাও বলে মিলন চিৎকার করছিলেন। আর এই সুযোগেই নুর উদ্দিন মোটরসাইকেল আর মিলনের মোবাইল ফোন নিয়ে রাজারবাগের দিকে চলে যায়। বাতেন বলেন, অ্যাপস ব্যবহার না করে রাইড শেয়ার ও গভীর রাতে নির্জন ফ্লাইওভারে দিয়ে আসাতে মিলনকে খুব সহজেই হত্যা করে পালিয়ে যায় নুর উদ্দিন।