খালেদা জিয়ার জবানবন্দি বই আকারে প্রকাশ করায় আটক-২

0
300

নিউজ ডেস্কঃ    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দেওয়া জবানবন্দি আইন না মেনে বই আকারে প্রকাশ করায় দু’জনকে আটক করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব বলছে, ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ নামের ওই বইয়ে আদালত বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে খালেদার জবানবন্দি, মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রসহ বিভিন্ন অসত্য তথ্য সংযোজন করা হয়েছিল।

এ অপরাধে ৪৮৫টি বইসহ আব্দুর রহমান নূর রাজন ও মেহেদী আরজান ইভান নামে দু’জনকে আটক করে র‌্যাব-১০।বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাইয়ুমুজ্জামান খান।

তিনি বলেন, আটক ও পলাতক আসামিদের মূল উদ্দেশ্যে ছিল বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্বলিত বই গোপনে প্রকাশ করে আদালতকে বিব্রত করা এবং জনমতে আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো।

তিনি আরো বলেন, একটি মহল এমন গুরুত্বপূর্ণ মামলার তথ্য গোপন করে আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে মিথ্যা, বিকৃত ও অসত্য তথ্য সম্বলিত একটি বই সিলেটের একটি ছাপাখানায় প্রকাশ করে ঢাকায় বাজারজাত করতে চেয়েছিল। আদালত সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করেছিল তারা।‘

‘এমন তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ৫ কার্টন বইসহ রাজনকে আটক করা হয়। সে জানায়, বইটি ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন মেনে প্রকাশ করা হয়নি। তার সহযোগী হিসেবে ইভান, ওয়াসিম ইফতেখারুল হক, শিপন মোল্লা, বৈরাম খাঁ ওরফে রেজওয়ানুল হক শোভন এবং আব্দুর রব চৌধুরী কাজ করছিল।

আদালতের অনুমতি ছাড়াই তারা একে অপরের সহায়তায় বিচারাধীন একটি মামলার গুরুত্বপূর্ন এক আসামীর জবানবন্দি, মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করে সুশীল সমাজের কারও কারও মন্তব্য সন্নিবেশ করে তা গোপনে প্রকাশ করেছিল।

আটককৃত রাজন ও ইভান মূলত একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সাইবার এনালিস্ট।

র‌্যাব-১০ এর কমান্ডিং অফিসার বলেন, আসামিরা সমাজের সহজ সরল ব্যক্তিদের মধ্যে বইগুলো সরবরাহ করে আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে অরাজক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা করছিল। এর পেছনে কোন রাজনৈতিক নেতা কিংবা আরো কেউ জড়িত আছে কিনা, বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন ১৯৭৩ এর ২৯/৩১/৩২ ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান কাইয়ুমুজ্জামান খান।