ইমরান খানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায়

0
10

 

 

২০১৮ সালের আগস্টে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের তেহরিক-ই ইনসাফ দল৷ বিরোধী দলগুলো নির্বাচন নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছে৷ তারা মনে করে, সেনাবাহিনীর সহায়তায় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করে ক্ষমতায় এসেছেন ইমরান৷

 

দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করবেন, ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে টেনে তুলবেন— মূলত এই দুটো অঙ্গীকার করেই ভোট চেয়েছিলেন পাকিস্তানকে ১৯৯২-এর বিশ্বকাপ জেতানো সাবেক অলরাউন্ডার৷ কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময়ে কোনো ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি৷ তাই সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলো বিক্ষোভ শুরু করে৷ বিক্ষোভের নেতৃত্বে রয়েছেন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ধর্মভিত্তিক দল জমিয়াত উলেমায়ে ইসলামের নেতা মওলানা ফজলুর রহমান৷ প্রধান দুই বিরোধী দল নওয়াজ শরিফের মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) আর আসিফ আলী জারদারির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টিসহ অন্যান্য দলেরও সমর্থন রয়েছে এই বিক্ষোভে৷

 

বিরোধীরা মিছিলের নাম দিয়েছেন, আজাদি মার্চ’, অর্থাৎ ‘স্বাধীনতার মিছিল’৷ গত রবিবার পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচি থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন শহর ঘুরে বৃহস্পতিবার মিছিলটি রাজধানী ইসলামাবাদে এসে পৌঁছায়৷

 

শুক্রবার মিছিলে অংশ নেয়া তরুণ হাবিবুর রহমান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মানুষ এখন তিন বেলার আহার জোটাতেও হিমশিম খাচ্ছে৷ তিনি আরো বলেন, ‘‘দেশে অঘোষিত সামরিক শাসন চলছে৷”

 

ইমরান খানের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তিনি নতুন আসছেন আর তাকে আন্তরিক মনে হয়েছিল বলে আমার পরিবার তাকে ভোট দিয়েছিল৷কিন্তু তিনি আমাদের হতাশ করেছেন৷”

 

তার পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ চললেও ইমরান জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না৷ এর আগে সেনাবাহিনীর বিশেষ সহায়তা নিয়ে কারচুপি করে নির্বাচিত হওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি৷

 

এদিকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো সেটি হচ্ছে এই বিক্ষোভে কোন নারী নেই। তবে নারীদের না থাকাটা ভুল করে হয়নি: গত রোববার আজাদি মার্চ বা মুক্তির বিক্ষোভের জন্য যে লিফলেট ছড়ানো হয়েছিলো তাতে নারীদেরকে বিক্ষোভে না এসে বরং ঘরে থেকে রোজা রাখতে ও দোয়া করার কথা বলা হয়েছে।

 

আর এটা কাজও করেছে। বিবিসির উর্দু প্রতিবেদকরা বলেছেন, শুক্রবার জেইউআই-এফ এর গাড়িবহরে কোন নারী ছিল না। এর আগে আরো ৫ দিন দলে পাকিস্তান জুড়ে চলেছে গাড়ি বহরের এই বিক্ষোভ।

 

তারপর শুক্রবার অন্য বিরোধী দলগুলোর সাথে মিলে রাজধানীতে গণ বিক্ষোভের দিনেও আরেকটি নির্দেশ জারি হওয়ার কথা শোনা গেছে: আর তা হলো, এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে নারী সাংবাদিকদের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

 

অনেক নারী সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলেও তাদেরকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। অনেকে আবার অভিযোগ করেছেন যে, তারা এমন হয়রানির শিকার হয়েছেন যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় ছিল না।