নিজ কক্ষে ফ্যানের সাথে ঝুলে কিশোরগঞ্জ ভৈরব শহরে আদআন নামে যুবকের আত্মহত্যা

0
829

মিলাদ হোসেন অপু,ভৈরবঃ মনি(ছদ্মনাম)তুমি আর তোমার বাপ-মা, ভাই আমার সাথে বেঈমানি করছ। আমি আমার মা টাকে কোনদিন শান্তি দিতে পারি নাই। আম্মা কোনদিন এদের তুমি মাফ কইরো না। আমাকে সবাই আমাকে মাফ করে দিবেন। গত মঙ্গলবার রাতে নিজ ফেসবুকে স্টার্টাসটি লিখে আদনান (২৮) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করে।

কিশোরগঞ্জ ভৈরব শহরে নিউটাউন এলাকায় পাঁচতলা ভবনে থাকতেন আদনান ও তার পরিবার। এই বিল্ডিংয়ে নিজ কক্ষে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে আদআন। তার গ্রামের বাড়ী নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলা মহেশপুর ইউনিয়নের আলগী গ্রামে। তার বাবার নাম মো: মিস্টার মিয়া।

বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে ঘটনা অবহিত না করে তার লাশ উদ্ধার করে গোপনে গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে তড়িঘড়ি করে আজ দুপুরে তার নিজ এলাকায় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে , যুবক আদনান ভৈরবের এক ধনী ব্যবসায়ীর নাতনী মনি বেগমের ( ছদ্মনাম) সাথে গভীর প্রেম ছিল। তাদের ভালবাসার দৃশ্যমান অনেক ছবিও তার ফেসবুকে আপলোড আছে। কিন্ত ইতিমধ্যই প্রেমিকার বাবা তাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়। এরপর থেকে আদনানের সাথে তার প্রেমিকার সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আদনান ভৈরবের বাসায় থাকলেও সে রায়পুরা এলাকায় নীলকুঠি নামক স্থানে মুরগীর খাবার ফিডের ব্যবসা করত। এদিকে ভৈরবের ওই ধনী ব্যবসায়ীর গ্রামের বাড়ীও রায়পুরা থানার দৌলতকান্দি এলাকায় বলে জানা গেছে। প্রেমিক মেয়েটির এই আচরণে ব্যথা বেদনা আর দুঃখে প্রেমিক আদনান মধ্যরাতে আত্মহত্যা করে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিল। তার আত্মহত্যার ঘটনাটি আজ ভৈরব এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।এব্যাপারে ঘটনা জানতে তার বাবার মোবাইলে বার বার ফোন করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে প্রতিবেশী বাসার বন্ধুরা তাদের প্রেমের কথা এই প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করে।