শিশু-কিশোরদের জেগে ওঠাতে ভয় পেয়েছে সরকার-রিজভী

0
450

ঢাকা প্রতিনিধিঃ   আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের অভিভাবকরা অজানা আতঙ্কে উৎকণ্ঠিত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

তিনি জানান, তাঁর দাবি, অরাজনৈতিক এই ন্যায্য আন্দোলনকে দমানোর জন্যই পুলিশ গতকাল বুধবার রাতভর সমগ্র বসুন্ধরা এলাকা আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছে।

রিজভী বলেন, ‘রাজধানীর ১৮ থানায় ৩৫টি মামলা দেওয়া হয়েছে। যে মামলায় অজ্ঞাতনামা হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে জড়িত করা হবে। এরই মধ্যে ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে আর ২২ জন রিমান্ডে আছেন। নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের আটকের পর কোমরে দড়ি বেঁধে রিমান্ডে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন করা হচ্ছে। গতকাল সারা দেশজুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হানাদারি অভিযানে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই অভিযান সরাসরি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এক নির্মম আগ্রাসন।’

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, শিশু-কিশোরদের জেগে ওঠাতে ভয় পেয়েছে সরকার। শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন প্রচলিত আন্দোলন নয়, এটি ভিন্ন ধারার প্রতিবাদের এক অনন্য স্বতন্ত্র রূপ।

‘দেশে নাকি নানা অশুভ খেলা চলছে’—আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এ মন্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, দেশে অশুভ সরকার থাকলে জনগণ অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে যে খেলায় অবতীর্ণ হয়, তা প্রকাশ্য ও ন্যায়সংগত। অশুভ সরকার ক্ষমতায় থাকলে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান সমালোচনা, প্রতিবাদ, প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ হচ্ছে জনগণের পক্ষের শক্তির শুভ খেলা। এখানে কোনো অদৃশ্য খেলা নেই। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন ন্যায্য ও বিবেক জাগনিয়া, তারা গোপন কিছু করেনি, তাদের আন্দোলন প্রকাশ্য ও জনসমর্থিত।

বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্যাতিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পপন্ন আলোকচিত্রি ড. শহিদুল আলমকে উচ্চ আদালত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসএমএমইউ সরকারের হুকুমে তাঁকে ভর্তি নেয়নি। এরা কতটা নিষ্ঠুর যে, একজন নির্যাতনে অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালেত আপিল করেছেন, যেন শহিদুল আলম হাসপাতালে সুচিকিৎসা না পান। এ ঘটনায় আবারও কি প্রমাণ করার দরকার আছে খালেদা জিয়ার এই পিজি হাসপাতালে সুচিকিৎসা পাবেন? ওই হাসপাতালে সরকারি নির্দেশের বাইরে কোনো চিকিৎসা হয় না। ভিন্ন মতালম্বীরা সেখানে কোনো সুচিকিৎসার সুযোগ নেই।