ভৈরবে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ,আহত-২৫

0
225

মিলাদ হোসেন অপু, ভৈরবঃ   কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সাদেকপুর ইউনিয়নের মেন্দিপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় ২৫ জন আহত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষরা কমপক্ষে ১০ টি বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং শতাধিক খড়ের পারাতে আগুন দিয়েছে। শুধু তাই নয় প্রতিপক্ষরা শতাধিক বাড়ী লুটপাট ভাংচুর করে। এসময় নারী পুরুষ বৃদ্ধ বৃদ্ধাসহ  শিশুদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র দা, বল্লম, লাঠিসহ ইট পাটকেল ব্যবহার করে।

তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ও সহকারী কমিশনার ( ভূমি) এবং নিবার্হী ম্যাজিস্ট্যাট মো.জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অানে। গুরুতর আহতদের মধ্য ৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো  হয়েছে এবং এছাড়াও ৭ জনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্য যাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয় তারা হলো আক্কাছ আলী ( ৪৫) , ইয়াকুব (২৮), শহীদ মিয়া (৩০), শাহানা বেগম (৩৫), এলাছ মিয়া ( ৪২), জাহের মিয়া ( ৮০)  ও মানিক মিয়া (৭১)। ভৈরব হাসপাতালে যাদেরকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় তারা হলো গুলজান বেগম (৪০), মাছুম (৩৫), সাফিউদ্দিন (৭৫), নাসিম (৩৩), আনোয়ার হোসেন (৩৫), জিলান উদ্দিন (৫০) ও রমজান (৩৫)। বাকী আহতরা স্থানীয় ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আমজাদ হোসেন জানান, অাহতদের মধ্য গুরুতর ৭ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এছাড়াও আহতদের মধ্য ইয়াকুবের অবস্থা আশংখাজনক।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায় , গত ১৫ জুলাই ভৈরবের সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের সিএনজি চালক সিদ্দিক মিয়া (৪২) ভাড়া নিয়ে ঝগড়ায় মেন্দিপুর এলাকায় নিহত হয়। এই ঘটনায় তার ভাই রইছউদ্দিন এলাকার চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাকে প্রধান আসামী করে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে। মামলার ৩০ জন আসামী গত সোমবার কিশোরগঞ্জ আদালত থেকে জামিন পেয়ে তারা আজ দুপুরে তাদের বাড়ীতে এসেছিল। এর আগে হত্যার পর আসামীরা ২৪ দিন যাবত পলাতক ছিল। তারা জামিন পেয়ে আজ দুপুরে সবাই একযোগে বাড়ীতে আসলেই প্রতিপক্ষ বাদীর লোকজন তাদের বাধা দেয়। এসময় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে এই ঘটনা ঘটে।

ভৈরব উপজেলার ম্যাজিস্ট্যাট জাকির হোসেন জানান ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি।

ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের অফিসার ইনচার্জ আক্কাছ আলী জানান, মেন্দিপুর গ্রামে আগুনের ঘটনা ভয়াবহ। ১০ ঘর ও শতাধিক খড়ের পারা নেভাতে কর্মীরা কাজ করছে।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো.মোখলেছুর রহমান জানান, সাদেকপুর ইউপির ৪ টি গ্রামই ঝগড়াতে গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এসব গ্রামে দুটি শক্তিশালী গ্রুপ যুগ যুগ ধরে ঝগড়া সংঘর্ষ করছে। গত দুই বছরে এই এলাকায় ৪ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব গ্রামবাসীরা এলাকার কাউকে মানেনা এবং ভয় করেনা। পুলিশ ওই ইউনিয়নের গ্রামে গেলে তারা পুলিশের ওপর পর্যন্ত আক্রমন করে। হত্যা মামলার আসামীরা আদালত থেকে জামিন পেয়ে বাড়ীতে গেলে আজ প্রতিপক্ষরা তাদের ওপর আক্রমণ করলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।