নিষেধাজ্ঞা না মেনে পুকুর দখল করে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালীরা

0
570

রেজাউল করিম রেজা, জয়পুরহাটঃ    হাই কোর্টের আদেশকে উপেক্ষা করে জয়পুরহাট সদর উপজেলার চকউজাল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকলেছার রহমানের পারিবারিক পুকুর গুচ্ছ গ্রামের সাধারণ ভুমিহীন মানুষকে লেলিয়ে দিয়ে জবরদখল করছে এলাকার প্রভাবশালীরা ।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা মোকলেছার রহমানেরপৈত্রিক পুকুরে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোটের ডিভিশনের সিভিলরিভিশন পিটিশর ১৪১৯/১৭ চিঠির নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্যজয়পুরহাট জেলা প্রশাসন কর্তৃক সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বয়কে নির্দেশ দিলেও তা না মেনেইপুকুর দখল করে মাছ চাষ করছেন এবং মুক্তিযুদ্ধা পরিবারকে হয়রানীকরেছে প্রভাবশালীরা।

১৯৫০ সালে বিনয় গোবিন্দ দাস ও তার ওয়ারিশদের কাছ থেকেমুক্তিযোদ্ধা মোকলেছার রহমানের পিতা কোবাদ হোসেন মন্ডল এরকাছে বিনিময় দলিল হস্তান্তর করে, ২০০২ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধামোকলেছুর রহমান ও তার মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা ভোগ দখল করে আসছে।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হওয়ায় তৎকালীন বিএনপি-জামায়াতেরঅনুশারীরা কিছু ভুমিহীনদের ব্যবহার করে পুকুরটি জোড় করে দখলকরে। তৎকালীন সময় কোবাদ হোসেন দিং পুকুরের শর্ত দখল চেয়েজয়পুরহাট আদালতে মামলা করে। কিন্ত এতদিনেও শর্ত দখল না পাওয়ায়২৮/০২/১৭ তারিখে মহামান্য হাইকোর্টে পুকুরের নিষেধাজ্ঞা চেয়েডিভিশনের সিভিল রিভিশনে নিষেধাজ্ঞার আদেশ চাইলে হাই কোর্টের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে পুকুরের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

পরে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন ২৭ জুন ২০১৮ তারিখে জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) কে পুকুরের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য চিঠি দেয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পুকুর দখলকারী মৎস চাষীরা বহাল তবিয়তে মাছ চাষকরায় স্থানীয় প্রশাসনের নিরবতায় ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।

পুকুর পাড়ের গুচ্ছগ্রামের সভাপতি ওসমান আলী বলেন, ২০০১ সালথেকে আমরা গুচ্ছগ্রাম তৈরী করে পুকুর পাড়ে বসবাস করছি। ৫শতক করে পুকুর পারের জমি ভুমিহীনদের লিজ দিয়েছে স্থানীয়প্রশাসন। তার আগে পুকুরটি মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে ছিল।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মোকলেছুর রহমান বলেন, ১৯৫০সাল থেকে আমাদের ভোগ দখল করা পুকুর ২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতার সময় তাদের অনুসারীরা আমাদের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পুকুরটি জোর করে দখল করে।

পুকুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়া আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, আদালতে নির্দেশে জেলা প্রশাসন কর্তৃক পুকুরের যে নিষেধাজ্ঞার চিঠি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশ মত সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।