মাগুরায় বাদামী গাছ ফড়িংয়ে সর্বশান্ত৩ শতাধিক কৃষক

0
9

মোঃ কাশেমুর রাহমান মাগুরাঃ

চলতি আমন মৌসুমে মাগুরার বিভিন্ন ধান ক্ষেতেবাদামী গাছ ফড়িং তথা কারেন্ট পোকার আক্রমন ঘটেছে। এতে জেলার অন্তত৩ শতাধিক কৃষক সর্বশান্ত হয়েছে।জেলার সদর উপজেলার মঘি,শত্রুজিৎপুর, কাটাখালী, সত্যপুর,শেখপাড়াএলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি মাঠে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ ধান ক্ষেতেকারেন্ট পোকার আক্রমন হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে ৬১,৫৭০ হেক্টরজমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১,৫৬১ হেক্টর। মঘি গ্রামের কৃষক আনোয়ারুর ইসলাম জানান, তার ৪ বিঘাজমির পুরোটাই কারেন্ট পোকায় বিনষ্ট হয়েছে। এটি তার সারা বছরেরখোরাকী। একই মাঠের কৃষক ইউসুফ আলী শিকদার জানান, তার ২ বিঘাজমির পুরো ধানই কারেন্ট পোকায় বিনষ্ট হয়েছে। ইকরাম মোল্যা নামে অপরএক কৃষকের ৩ বিঘার মধ্যে ২ বিঘা জমির ধান কারেন্ট পোকায় বিনষ্ট হয়েগেছে।

পার্শ্ববর্তী মাঠের কৃষক মান্নান জোর্য়াদ্দার জানান, তার একএকর আমন ধানের ৭৫ শতাংশই কারেন্ট পোকায় বিনষ্ট করেছে। এছাড়াআবুল কালাম আজাদের ২ বিঘা, গোলাম কুদ্দুসের ২ বিঘা, মিজানুররহমানের ৩০ শতাংশ, রওশন মোল্যার ২ বিঘা জমির ধান একইভাবে বিনষ্টহয়েছে।কৃষকরা জানান, বাদামী গাছ ফড়িংয়ের আক্রমনের সবচেয়ে ভয়াবহদিক হচ্ছে এটির আক্রমনে একদিনের মধ্যেই সমস্ত ধান বিনষ্ট হয়ে যায়।ঘরে তোলার মত এক ছটাক ধান পর্যন্ত থাকে না। একদিনের মধ্যে গোটাক্ষেত বিনষ্ট হওয়ায় প্রতিকার পাওয়া যায় না। এ কারণে কৃষি বিভাগেরউচিৎ কোন এলাকায় আক্রান্ত হলে গোটা জেলায় সার্বক্ষণিক নজরদারিরাখা।

কিন্তু মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সেরকমব্যবস্থা নেন না। ফলে এক এলাকা থেকে ছড়াতে ছড়াতে এটি সহজে সর্বত্রছড়িয়ে পড়ছে । সাধারণত অতি উষ্ণতায় এটির আক্রমন হয়। ফলে চলতি ধানমৌসুমে যখন খুব বেশী গরম পড়েছে তখনই কৃষি বিভাগের এ বিষয়েসতর্ক থাকা জরুরী ছিল। মাগুরা সদর উপজেলার আলমখালী এলাকার উপ-সহকারি কৃষিকর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, তার কর্ম এলাকায় মাত্র ৫ শতক জমিতেকারেন্ট পোকায় আক্রমন হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে ধান কেটে ফেলায় এটিরবিস্তার হয়নি। তিনি তার এলাকার মাঠে প্রায় শতভাগ জমিতে লাইন সুইংতথা সারি পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। যেকারণে পোকার আক্রমন তেমন হয় নি। লাইন সুইং পদ্ধতিতে ধান লাগালে ভেতরে আলো বাতাস প্রবেশ করে। সেক্ষেত্রে কারেন্ট পোকার আক্রমনের সম্ভাবনা কম থাকে। সনাতন পদ্ধতিতে ধান রোপন ককরলে ভেতরে আগাছা হয়,আলো প্রবেশ করে না।

সেক্ষেত্রে পোকার আক্রমন হবার আশংকা বেড়ে যায়।কারেন্ট পোকার আক্রমন হবার সাথে সাথে ওই ক্ষেতের ধান কেটে ফেলতে হয়।পাশাপাশি কিছু সুনির্দিষ্ট ওষুধ আছে যেগুলো স্প্রে করতে হবে।এ বিষয়ে মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক জাহিদুলআমিন বলেন,‘জেলায় স্বল্প সংখ্যক জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমন হয়েছে।এটি নিয়ন্ত্রণে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রমন হবারআগেই অনেক ক্ষেতের ধান উঠে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমান নগন্য। কৃষকদেরযথাযথ পরামর্শ দেবার পাশাপাশি সার্বক্ষনিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে’।