বড়াইগ্রামে মিথ্যা অপবাদে আটক এ্যাম্বুলেন্স চালকের মুক্তি দাবি

0
62

নাহিদ হোসেন, নাটোরঃ   নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌর এলাকার তিন কিলোমিটার অদূরে দাঁইড়পাড়া এলাকায় শিশু অপহরণকারী হিসেবে আটক হওয়া এ্যাম্বুলেন্স চালকের নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন পাবনা জেলা মাইক্রোবাস চালক সমিতি ও পরিবারের লোকজন।

শুক্রবার দুপুরে বনপাড়াস্থ কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবে সমিতির নেতৃবৃন্দ ও পরিবারেরর ঘনিষ্ট সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পাবনা জেলা মাইক্রোবাস চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম লিখিত বক্তব্যে জানান, বুধবার সকালে পাবনা থেকে স্থানীয় জমজম মেডিকেল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের একটি এ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে চালক করিম প্রামাণিক (৪০) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়।

সেখানে ওই রোগী নামিয়ে দিয়ে বনপাড়া পৌরশহরের আরেকটিরোগী নিয়ে তিনি ফিরে আসেন। সন্ধ্যার দিকে পাবনায় ফেরারপথে দাঁইড়পাড়া এলাকায় পৌঁছালে কে বা কাহারা ঢিল ছুঁড়ে এ্যাম্বুলেন্সের গ্লাস ভেঙ্গে দেয়। চালক করিম এ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে কাছেই ৫/৬ বছরের একটি শিশুকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে গেলেওই শিশু ভয়তে চিৎকার দিয়ে উঠে। কিছু না বোঝার আগেইআশে-পাশের লোকজন ছুটে এসে শিশু অপহরণকারী সন্দেহে তাকে আটক করে বেদম মারপিট করে ও এ্যাম্বুলেন্সটিতে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

পরে খবর পেয়ে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে উদ্ধারকরে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল লালপুর থানা সীমানা হওয়ায় ওই চালককেসংশ্লিষ্ট থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং সেখানে তারবিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে তাকে নাটোর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

করিম প্রামাণিক পাবনা শহরের পশ্চিম সাধুপাড়া মহল্লারইজিবার প্রামাণিকের ছেলে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জমজম মেডিকেল এন্ড ডায়াগনষ্টিকসেন্টারের দুই পরিচালক হাকিম আহম্মেদ ও ওয়াজেদ আলী খান
তাদের বক্তব্যে দাবি করেন, চালক করিম একজন ভদ্র, বিনয়ী ও সৎলোক। তার বিরুদ্ধে এ যাবত কোন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ডেরঅভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনতা নিতান্তই ভুল বুঝেতাকে নির্মমভাবে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

অপরদিকে এ্যাম্বুলেন্সটির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত করেছে। তারা ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করে চালক করিমের নিঃশর্ত মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ওএ্যাম্বুলেন্স ভাংচুরের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তারা এসময় আরও অভিযোগ করে জানান, ঘটনাস্থলে থাকা জাহিদুল ইসলাম নামে জামায়েতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতা নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চালক করিমের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।

এ টাকা না পাওয়ায় তারই ইন্ধনে করিমকে অপহরণকারীর অপবাদ দিয়েমারধর করা হয় ও এ্যাম্বুলেন্সে ভাংচুর চালানো হয়।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে করিমকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্ত করে নির্দোষ প্রমাণিত হলে আদালত অবশ্যই তাকে মুক্তি দিবেন বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন করিমের পরিবারের ঘনিষ্ট সদস্য হুমায়ুন কবির, শাহিন আলম প্রমূখ।