স্ত্রীর পরক্রিয়ার বলি হলেন রেলওয়ে কর্মচারী মাহবুব

0
80

মিলাদ হোসেন অপু, ভৈরবঃ

স্ত্রীর পরক্রিয়ার বলি হলেন মাহাবুবুর রহমান নামে এক রেলওয়ে কর্মচারী। খুনের ঘটনায় পুলিশ তাঁর স্ত্রী রোকসানা আক্তার ও দেবর (নিহতের চাচাতো ভাই)আসিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, আসিফের সঙ্গে রোকসানারঅবৈধ প্রেমের স¤পর্ক গড়ে ওঠে ছিলো।

সপ্তাহে একদিন মাহবুব ছুটিতেবাড়ি আসলেও তাকে সয্য করতে পারতোনা স্ত্রী রোকসানা ও চাচাতো ভাইআসিফ। পথের কাটাঁ সরাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মাহবুবকে হত্যারআগে পায়েসের সঙ্গে প্রায় ৩০টি ঘুমের ট্যবলেট খাওয়ানো হয়।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের আইভি রহমান পাড়ায় গত ২৭ নভেম্বর বুধবার গভীররাতে নিজ বাসায় এই হত্যান্ডের ঘটনা ঘটে।হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভৈরব থানার ওসি (তদন্ত) বাহালুল খানবাহার আজ রবিবার সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি আরও বলেন, গতকালশনিবার সকালে পুলিশ সন্দেহজনক হিসেবে আসিফকে তাঁর বাড়ি থেকে আটককরে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথাস্বীকার করে। তাছাড়া আসিফের দেওয়া তথ্য মতে, শনিবার রাতে বাড়ির কাছে একটি কচুক্ষেত থেকে হত্যার সময়তাঁর পরনের রক্তমাখা শার্ট ও প্যান্ট উদ্ধার করা হয়।

ফলে  রবিবার তাঁকেগ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই সঙ্গে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজহাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত মাহাবুবের স্ত্রী রোকসানাকেও গ্রেপ্তারদেখানো হয়েছে। আসিফের পর রোকসানাও হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবিপুলিশের।নিহতের স্বজনরা জানায়, মাহাবুব রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলবিভাগের এসএস ফিটার পদে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক যুগ আগে মাহাবুব-রোকসানার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। সাপ্তাহিকছুটিতে প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন নিহত মাহুবুব। কিন্তু গেলসপ্তাহে এক দিন আগেই অর্থাৎ ঘটনার আগের দিন ২৭ নভেম্বর বুধবার রাতেবাড়িতে আসেন। রাতের আধারে বেড রুমে ছুরিকাঘাতে খুন হয় মাহবুব।

পরেএই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মাহবুবের স্ত্রীরোকসানাকে সন্দেহের তালিকায় রেখে অজ্ঞাতনামা ৪জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাদায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাহালুল খান বাহার আরও বলেন, শুরু থেকেই নিহতেরস্ত্রীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়।

আর মুঠোফোনের সূত্র ধরে আসিফকে শনাক্তকরা হয়। আটকের পর আসিফ রোকসানার সঙ্গে প্রেমের কথা স্বীকার করেন। তাঁরামনে করেছিলেন, মাহাবুবকে সরিয়ে দিতে পারলে তাদের পথের বাধা দূর হয়েযাবে। এরপরই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দু’জনে।