৩২ টাকা কেজি পেঁয়াজ এনে বিক্রি হয় ২৩০ টাকায়!

0
24

 

শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পেঁয়াজ এনে অসদুপায়ে বিপুল মুনাফা করার অভিযোগ উঠেছে আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ট্রাকে ওঠা পর্যন্ত কেজিপ্রতি খরচ পড়ে মাত্র ৪০-৪৫ টাকা। অথচ বিস্ময়করভাবে সেই পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রির সময় তার দাম উঠে যায় ২০০-২৩০ টাকায়। অর্থাত্ কেজিতে লাভ ১৬০-১৮০ টাকা। ভোক্তারা একে ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়া বলে বিদ্রুপ করছেন।

 

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ দুই মাস ধরে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়লেও টেকনাফ-কক্সবাজারের স্থানীয় বাজারে বাড়তি আমদানির কোনো প্রভাব পড়েনি। বিভিন্ন সময় ‘সিন্ডিকেটের কারসাজি’র কথা উঠলেও বিষয়টি প্রকাশ পায়নি। কিন্তু গত বুধবার (৪ ডিসম্বের) অজ্ঞাত এক ফোনের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের কারসাজির বিষয়টি নজরে এলে টেকনাফ থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) রাকিবুল ইসলামকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়।

 

তিনি বলেন, হঠাৎ বন্দরে গেলে ওসি রাকিবকে বন্দর কর্তৃপক্ষ অসহযোগিতা করে। পরে উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বন্দরে প্রাথমিক তদন্তে দেখতে পায়, আমদানির সঙ্গে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহের কোনো মিল নেই। সিন্ডিকেট আমদানির কাগজপত্রে হাজার হাজার টন পেঁয়াজ আনার চিত্র দেখালেও বাজারে ছাড়া হয়েছে সামান্য। এভাবে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আদায় করে নেয়া হয়েছে। অথচ মিয়ানমারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা হয়েছে মাত্র ৩২ টাকায়।

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র। আমদানিকারক, শুল্ক কর্তৃপক্ষ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও বন্দর কর্তৃপক্ষের লোকজন একীভূত হয়ে দেশের পরিস্থিতি বেসামাল করছে আর সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছে।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান জানান, তদন্তে দেখা গেছে গত অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসে ৪২ হাজার ৪০৩ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। হিসাব মতে, দৈনিক গড়ে ৭০০ টন পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে আমদানি হয়। আমদানির নথি, বিল অব এন্ট্রি পর্যন্ত ঠিক দেখানো হলেও সিন্ডিকেট কারসাজিতে বাস্তবে কি পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া হয়েছে তার কোনো প্রমাণ সংশ্লিষ্টরা দেখাতে পারেননি। আমদানির কাগজ মিললেও বন্দর থেকে ট্রাকে ডেলিভারির কোনো কাগজ বা প্রমাণ নেই। এমনকি গত ২৫ নভেম্বর এক হাজার বস্তা ও ৩০ নভেম্বর এক হাজার ৮০০ বস্তা আমদানি করা পেঁয়াজের কোনো হদিস বন্দর, আমদানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।