আশুলিয়ায় চেয়ারম্যান সহযোগী গুলিবিদ্ধের ঘটনায় মুল হোতা বাদে ১০জনের বিরুদ্ধে মামলা!

0
8

 

আশুলিয়া থানার ধামসোনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলামের অন্যতম ক্যাডার রিয়াজ গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ৫ জনের নামউল্লেখসহ ১০ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী গুলিবিদ্ধ রিয়াজের মামাতো ভাই রিয়াদ মোল্লা। আসামীদের সকলেই চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।

 

জানা যায়, পরিবহণের চাঁদা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে রিয়াজকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। রিয়াজ সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিওতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার জ্ঞান ফিরেছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ রিয়াজের মামাতো ভাই রিয়াদ মোল্লা বাদী হয়ে সোমবার গভীর রাতে আশুলিয়া থানায় ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩০৭ ধারায় একটি মামলা রুজু করেছে। হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর ও গুলি করে গুরুতর জখমের অপরাধ।

 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, বাদি রিয়াদ মোল্লাও চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী। তিনি কৌশলে চেয়ারম্যান সাইফুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাহবুব ও বিএনপি নেতা এবং মাহাবুবের সহযোগী ওযেলকাম মিন্টুকে বাদ দিয়ে মামলায় আসামী করেছেন চেয়ারম্যানের অন্য সহযোগী রুমেল, গাউছ, সুলতান, হামিদকে। এছাড়াও মামলার ৫ নম্বর আসামী করেছেন পরিবহণ ব্যবসায়ী ভাদাইল এলাকার আমির আলীকে। এজাহার নামীয় ৫ জনসহ অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে আরো ৫ জনসহ মোট ১০ জন।

 

জানা যায়, চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের লোকজন তার নামে মৌমিতা, ওয়েলকাম ও আশুলিয়া ক্লাসিক-এর ব্যানারে চলা প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রতিদিন  ৫০-১০০ টাকা চাঁদা তোলেন বাইপাইল এলাকা থেকে। এ টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়েই তাদের মাঝে দ্বন্দ্ব হয়। আর এর জের ধরেই মারধর ও গুলির ঘটনা ঘটে।

 

এ ব্যাপারে বাদি তার লিখিত অভিযোগে বলেন, পূব শত্রুতার জের ধরে রিয়াজকে গুলি করেছে রুমেল। রুমেলের কাছে রয়েছে অবৈধ অস্ত্র। তাকে মারধর করেছে গাউছ, সুলতান ও হামিদসহ আরো ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা।

 

জানতে চাইলে, আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনি গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন। তবে সেটি পিস্তলের গুলি বলেও জানান তিনি। আর অবৈধ পিস্তলটি এবং চিহ্নিত ব্যবহারকারীসহ সহযোগিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

 

প্রসঙ্গত, গত রোববার রাত সাড়ে ১০টারদিকে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর গরুর হাট সড়কের মালেকের বাড়ির সামনে রাস্তায় মারধর ও গুলি করার এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। এলাকাবাসী গুলিবিদ্ধ রিয়াজকে উদ্ধার করে প্রথমে হাবিব ক্লিনিক পরে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিওতে সজ্ঞাহীন অবস্থায় ভর্তি করেন। পরেরদিন তার জ্ঞান ফিরলে তার কাছে হামলার বিষয় জেনে মামাতো ভাই রিয়াদ মোল্লা বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায়  ১০ক্যাডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।