ফেরি চলাচলকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে হবে

0
578

পদ্মার মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে এবং অস্বাভাবিক হারে পলি জমার কারণে মাঝপথে আটকে যাচ্ছে ফেরি। এ কারণে সড়কে যানজটের মতো নদীর বুকেও এখন দেখা যাচ্ছে যানজট এবং ক্রমেই পরিস্থিতির শুধু অবনতি হচ্ছে।

অথচ কদিন পরই ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশু পরিবহন। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সড়কপথে যোগাযোগে ফেরি পারাপারের অন্য কোনও পথও নেই। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে বড় ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ভারী যানবাহন পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির রুটটি সচল রাখতে ৭টি ড্রেজার দিয়ে খনন করছে। ২০১৪-২০১৫ সালে ৮ থেকে ৯ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণের প্রয়োজন হতো। এখন তা বেড়ে ৩০ থেকে ৩২ লাখ ঘনমিটার দাঁড়িয়েছে। গত জুন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক নাব্যতা সংকটের পেছনে প্রকৃতির অস্বাভাবিক আচরণ, নদীর খামখেয়ালির কিছুটা দায় রয়েছে। এই দায়ের নেপথ্যের যদি আমরা একটু গভীরে যাই তবে স্বীকার করতে হবে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থা ও দুর্নীতির ফলই বর্তমান সংকট।

মানুষের দুর্ভোগ রোধে এবং অর্থনীতির স্বার্থে মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে নাব্যতা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। ফেরি চলাচলকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতেই হবে।

সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।