পবিত্র ঈদ-উল-আযহা

0
339

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। এই পবিত্র দিনটিতে মুসলমানরা ঈদগাহে গিয়ে এক সঙ্গে নামাজ শেষ করে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দেবেন। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব বয়সী মুসলমান ভাবগম্ভীর পরিবেশে নামাজ আদায় করেন এবং পরস্পর কুশলাদি বিনিময়ের পাশাপাশি কোলাকুলি করেন।

ঈদগাহে সমবেত সব মুসল্লি আল্লাহপাকের দরবারে মোনাজাত করেন পার্থিব এবং পারলৌকিক কল্যাণের আশায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য দুই ঈদই অশেষ সংহতি ও সম্প্রীতি বয়ে আনে। কোরবানির মাংসের একটি অংশ দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়, এতে ঈদের আনন্দ ভিন্নতর মাত্রা পায়।

হযরত ইব্রাহিম (আ) যে উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন সেটাকেই মর্যাদা দিয়ে বিশ্বের মুসলমানরা ঈদ-উল-আযহা পালন করে আসছেন। মূলত পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে আত্মোৎসর্গের এক পরম মহিমার নজির স্থাপন করে গেছেন হযরত ইব্রাহিম (আ)।

শরীয়তের বিধান অনুসারে কোরবানির পশুর মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজে, একভাগ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের এবং একভাগ দরিদ্রদের মধ্যে বিলি করার নির্দেশ রয়েছে। ইসলাম ধর্ম শুরু থেকেই সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পরোপকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এছাড়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতাকেও। পরিতাপের বিষয়, ইসলামের সঠিক বিধিনিষেধকে আমরা অনেকেই গুরুত্ব না দিয়ে অবাঞ্ছিত প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ি।

আমাদের মধ্যে বিদ্যমান পশু প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা জাতীয় নেতিবাচক প্রবৃত্তিকে সরিয়ে ফেলে সহজ-সরল মানবিক গুণাবলী অর্জন করাই হচ্ছে ঈদ-উল-আযহার তাৎপর্য।

পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় আমাদের প্রার্থনা, আল্লাহপাক যেন বিশ্ব মুসলিমের জাতীয় জীবনকে মর্যাদাশীল করেন, সবার জীবন আনন্দময় হোক।