ধুলো-বালির শহরে এখন নিত্যদিনের যানজটে অসহনীয় ভোগান্তি

0
25

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত,লালমনিরহাট:
মাক্স ও সানগ্লাস ছাড়া বুড়িমারী স্থল বন্দরে রাস্তায় চলাচল করা দুস্কর হয়ে পড়েছে। ফলে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে বিদেশি নাগরিকরা এ স্থলবন্দর দিয়ে ঢুকেই দেশের পরিবেশ আইনের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ডে প্রবেশ করছেন। এছারা বর্তমানে মূল সমস্যা হয়ে দারিয়েছে বুড়িমারি স্থলবন্দরে অকারণে যেখানে সেখানে রাস্তায় ট্রাক পার্কিংয়ের কারনে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা পড়েন নানা অসুবিধায়। আর এই  নিয়ে বাড়ছে দিন দিন ভোগান্তি।

জানা যায়, প্রথম দিকে এ বন্দরের আমদানি-রফতানি ভালো না হলেও বর্তমানে স্থল বন্দরটিতে প্রতিদিন সহস্রাধিক  ট্রাকে পাথরসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি হচ্ছে।এছাড়া বাংলাদেশ থেকে রাইস বেন্ড, ঝুট কাপড়, প্রাণ আরএফএল কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য  রফতানি হয়ে থাকে ভারতে। এছারা বর্তমান নানান ফলের ব্যবসা তো আছে। এই স্থল বন্দরটি সড়ক ও রেল যোগাযোগ ভালো হওয়ায় কারণে এ বন্দরটি অল্প সময়ে স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত লাভ করে।

কিন্তু বর্তমানে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন হাজার – হাজার ট্রাক যাতায়াত করে এই বুুুড়িমারি স্থলবন্দর এলাকায়। এসব ট্রাক রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বন্দর এলাকার বিভিন্ন রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। আর এতে করে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। আর এই যানজটের কারণে চলাচলের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। এছাড়াও এসব মালবোঝাই ট্রাকের কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের।

শুধু সাধারণ মানুষ ও স্কুল ছাত্র-ছাত্রীরা নয় এই এই রাস্তা দিয়ে উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী নিয়ে যেতে হয়। যে কারণে যানজটের জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদেরও। বন্দরের ব্যবসায়ীদের দাবি এই বন্দরে একটি স্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে কমবে যানজট।

সরেজমিনে গিয়ে ট্রাক ড্রাইভারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘বন্দরের চাহিদার তুলনায় নেই ট্রাক রাখার টার্মিনালে পর্যাপ্ত জায়গা। তাই আমরা মাঝে মধ্যে রাস্তার পাশেই ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখি। পাথর লোড করার পর পাটির চালানের জন্য রাস্তায় দাঁঁড়িয়ে আছি। যতক্ষণ চালান না মিলবে ততক্ষণ ট্রাক নিয়ে রাস্তার পাশে এভাবে আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এটা আমাদের জন্যও ভোগান্তির।

বুড়িমারি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এর একজন সদস্য বলেন, ‘জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে শুরু করে বন্দরের ঘুন্টি পর্যন্ত রাস্তাটি প্রশস্ত ও একটি বড় ট্রাক ট্রামিনাল নির্মাণ করা হলে এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরাও ব্যবসা-বাণিজ্য করে একটু শান্তি পাবো। তাই আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করবো আমাদের এই বুড়িমারি স্থলবন্দরের দিকে একটু নজর দেওয়ার জন্য।যাতে আমরা ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারি, পাশাপাশি জনগণও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।তিনি আরো বলেন, বুড়িমারি স্থলবন্দর থেকে পাটগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এটি সমাপ্ত হলে যানজট কমবে বলে তিনি আশা করেন।