আগ্নেয়গিরি ফুঁসছে, ছাইয়ের নিচে ঢাকা পড়েছে সব এলাকা

0
15

 

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফিলিপাইনের তাল আগ্নেয়গিরি লাভা উদগিরণ শুরু করেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, এরই মধ্যে ‘আগ্নেয়গিরি সুনামি’ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আশপাশের সব এলাকায় ছাই ছড়িয়ে পড়ায় বাসিন্দাদের মুখোশ পরার পরামর্শ দিয়েছে। ওই অঞ্চল থেকে প্রায় আট হাজার বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, গতকাল রবিবার আগ্নেয়গিরিটি থেকে প্রচণ্ড শব্দে প্রচুর ছাই নির্গত হয় এবং সাথে ভূমিকম্পের মতো কাঁপুনিও ছিল।

 

ফিলিপিন্স ইন্সটিটিউট অব ভলকানোলজি এন্ড সিসমোলজি (ফিভোলক্স) জানায়, তাল এলাকায় মোট ৭২টি ভূমিকম্প হয়েছে, এরমধ্যে ৩২টি ভূমিকম্প দ্বিতীয় ক্যাটাগরির এবং তীব্রতার স্কেলে বেশ উচুঁতেই ছিল।

 

জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় বিষয়ক বিভাগের-ওসিএইচএ কর্মকর্তারা জানান, তাল আগ্নেয়গিরির বিপজ্জনক ১৪ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সাড়ে চার লাখ বাসিন্দা রয়েছে।

 

আশেপাশের অনেক এলাকার বাসিন্দাদের ছাই পড়ার কারণে মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মেট্রো ম্যানিলা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, দোকানগুলোতে মাস্কের মজুদ শেষ হয়ে গেছে।

 

“আমি গাড়িতে গিয়ে দেখলাম, সেটি পুরোপুরি ছাইয়ে ঢেকে আছে। আমি দ্রুত একটি ওষুধের দোকানে গিয়ে মাস্ক কেনার চেষ্টা করলাম, কিন্তু তাদের কাছে মাস্ক শেষ হয়ে গিয়েছিল,” পারানাক এলাকার বাসিন্দা অ্যাঞ্জেল বাতিস্তা রয়টার্সকে একথা বলেন।

 

‘ধূসর এবং প্রাণহীন’

ফিলিপিন্সের তাগায়তায় এলাকায় থাকা বিবিসির সংবাদদাতা হাওয়ার্ড জনসন বলেন, “আজ সকালে তাল আগ্নেয়গিরির দিকে যাওয়ার সময় আমরা দেখলাম যে, স্থানীয় বাসিন্দারা বেলচা দিয়ে ভেজা ছাই রাস্তা থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। আনারসের ক্ষেত যা সাধারণত সুন্দর এবং মনোরম হয়, সেগুলো ধূসর এবং প্রাণহীন হয়ে পড়েছে।”

 

দূরে তাল আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই এবং ধোঁয়া আকাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এর কারণে মেঘও কালো হয়ে পড়েছে। আগ্নেয়গিরির আশেপাশে ১৪ কিলোমিটার এলাকায় যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। তবে ওই এলাকা থেকে বেরিয়ে আসা গাড়ি এবং ট্রাকের সারি ছিল রাস্তায়।

 

“একটি পিক-আপ ট্রাকের পেছনে একটি পরিবারকে দেখলাম যারা তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।”

 

তারা ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলার দিকে যাচ্ছে, যেখানে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে অনেকে। আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে ম্যানিলার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রবিবার সব ধরণের ফ্লাইট বন্ধ ছিল।