সংসদে ‘বিচারবহির্ভুত হত্যা’কে উৎসাহিত করায় টিআইবি’র উদ্বেগ

0
10

 

জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের ১৪ জানুয়ারি তারিখের আলোচনায় অভিযুক্ত ধর্ষণকারীদের ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভুত হত্যা করার দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

 

একইসঙ্গে সংবিধান স্বীকৃত আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সাথে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক এ ধরনের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সকল বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

আজ বুধবার বিকালে এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, “গণমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, সম্প্রতি আশংকাজনক হারে বেড়ে চলা ধর্ষণ প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে গতকাল এক আলোচনায় সম্মানিত সংসদ সদস্যদের একাংশের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের অংশ হিসেবে অপরাধটি দমনে ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি তুলে ধরা হয়, যা গভীরভাবে নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। একই আলোচনায় অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে এই পন্থার ‘কার্যকারিতা’ তুলে ধরে তারা তা এক্ষেত্রেও প্রয়োগের জোর দাবি জানান, যা একদিকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবৎ উত্থাপিত বিচারবহির্ভুত হত্যার অভিযোগের যথার্থতা প্রমাণ করে

 

“অপরদিকে বেআইনী এ পদ্ধতির পক্ষে আইনপ্রণেতাদের নিন্দনীয় উৎসাহ ও ঢালাও সমর্থন তুলে ধরে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অশনি সংকেত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসভায় এ ধরণের বেআইনী ও অযাচিত দাবিকে সংবিধানস্বীকৃত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পথে অপ্রতিরোধ্য অন্তরায়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দানের প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই ভাবা যায়না।”

 

ড. জামান আরো বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে মন্তব্যগুলো আবেগতাড়িত, তবে আইনপ্রণেতা হয়ে তাঁরা কেমন করে ভুলে গেলেন আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রাধান্যের কথা। এটি অতিশয় বেদনাদায়ক যা সকলকে হতবাক করেছে। এই অবস্থান আইন-শৃংখলা সংস্থাসমূহকে পেশাদারিত্বকে অবক্ষয়ের মুখে ঠেলে দিবে; বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা বৃদ্ধি করবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভ্যন্তরে আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা বৃদ্ধি করবে; ট্রিগার-হ্যাপী (হত্যাই অপরাধ দমনের একমাত্র উপায়) সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাবে।”

 

এ ধরনের অপরিপক্ক বক্তব্য রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অসম্মানজনক এবং ক্রসফায়ার বিষয়ে ইতোপূর্বে প্রদত্ত উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনভেনসমূহের প্রতি অবমাননাকর উল্লেখ করে ড. জামান আরো বলেন, ‘‘ক্রমবর্ধমান ধর্ষণের ঘটনায় সাম্প্রতিককালে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক অধিকতর অনিরাপদ ও উদ্বিগ্ন। সকলের দাবি এই যে, আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমেই এ অপরাধ প্রতিরোধ করতে হবে, আইনের লঙ্ঘন করে নয়; বরং আইন-শৃংখলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব জোরদার করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় উৎকর্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।”