মুজিববর্ষ উদযাপনে সরকারি বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা

0
10

 

মুজিবর্ষের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে (২০১৯-২০২০) রাখা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা৷ তবে বেসরকারি পর্যায়ে এই আয়োজনে যার যার মত খরচ করবেন৷

 

জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুজিব বর্ষে ব্যয়ের জন্য ১০০ কোটি টাকা বাজেটের সাধারণ খাতের টাকা৷ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মুজিব বর্ষ নিয়ে বৈঠকের সারসংক্ষেপ থেকে জানা যায় এই ১০০ কোটি টাকার ৪০ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এরইমধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে৷ বাজেটের বাকি ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার টাকা এখনো ছাড় করা হয়নি৷

 

যা ছাড় করা হয়েছে তারমধ্যে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির জন্য ২১ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মিডিয়া সেন্টারের জন্য ৪৩ লাখ ৪০ হাজার৷ ভিডিও, চলচ্চিত্র নির্মাণে ১২ কোটি ৫০ লাখ৷ মোটর সাইকেল মেরামতের জন্য দুই লাখ৷ ৫৩ জেলায় ৫৫টি ক্ষণ গণনা যন্ত্রের জন্য ছয় কোটি ৫২ লাখ৷

 

১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিনে মুজিব বর্ষ শুরু হবে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে৷ আর শেষ হবে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ আরেকটি বড় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে৷ দু’টি অনুষ্ঠানেই বিদেশী রাষ্ট্রনায়ক ও মেহমানরা থাকবেন৷ এরইমধ্যে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে মুজিব বর্ষের ক্ষণ গননা শুরু হয়েছে৷

 

এই এক বছরে সব মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরা হবে৷ বঙ্গববন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সংসদে বলেছেন, ‘মুজিববর্ষ পালনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে৷ এর ফলে বিশ্ববাসী নতুন করে বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ ও বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন৷’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০-২১ সালের জন্য ইউনেস্কোর গ্রহণ করা ৫৯টি বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন৷ বঙ্গবন্ধুকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহনে ইউনেস্কো উদ্যোগী হয়৷ এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবিচল সংগ্রাম ও ত্যাগের বিষয়গুলো ইউনেস্কো বিশেষভাবে বিবেচনা করেছে৷’

 

মুজিব বর্ষ উদযাপনে মোট দু’টি জাতীয় পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে৷ একটি হলো: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় উদযাপন কমিটি৷ এই কমিটির প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ এই কমিটিতে আছেন স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াবিদ, সাংবাদিকসহ দেশের বিশিষ্ট জনেরা৷ এর মোট সদস্য ১২০৷ এই কমিটির সদস্য সচিব হলেন ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী৷

 

আরেকটি হলে: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি৷ এই কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম৷ এর সদস্য সংখ্যা ৮০ জন৷ ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী এই কমিটির প্রধান সমন্বয়ক৷ তিনি দুই কমিটিতেই প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব পদমর্যাদায় কাজ করছেন৷