অটোগ্রাফের তুলনায় মুত্রত্যাগের সারি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ!

0
51

 

জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইন তার ফেসবুুক পোস্টে লিখেছেন, ‘মুত্রালয়ে প্রবেশ মাত্র কয়েক ঘন্টা ধরিয়া চাপিয়া রাখা তলপেটের তীব্র চাপযুক্ত চিনচিনে ব্যথা বক্ষাবধি ছড়িয়ে পড়িল! প্রায় ছয় ঘন্টা চাপিয়া রাখার পর প্রতিভার ন্যায় তাহারাও প্রকাশিত-বিকশিত হইবার নিমিত্তে তোলপাড় করিয়া সোচ্চার হইয়া উঠিয়াছিল। দীর্ঘ সারিতে দন্ডায়মান স্বাক্ষর শিকারি অপেক্ষমান পাঠক কুল হইতে করজোড়ে ক্ষমা প্রদর্শন পূর্বক পাঁচটি মিনিট চাহিয়া লইয়াছিলাম। কিন্তু বইমেলার মুত্রালয়ের প্রবেশ পথ হইতেই যে সুদীর্ঘ সারি চর্মচক্ষে দর্শন করিলাম, উহাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটিয়া যাইবার তীব্র বিপজ্জনক আলামত বিদ্যমান। কাঁচুমাচু বদনে, অদৃশ্য রোদনে, অপেক্ষমান সারির অংশ হইয়া ‘আল্লাহ রক্ষা করো’ জপিতেছিলাম।

কচ্ছপের ন্যায় মন্থর, শামুকের ন্যায় শ্লথ সেই সারি নড়েনা, চড়েনা। এহেন অবস্থায় চোখের সম্মুখে জগত সংসার ধূসর ও ঊষর প্রায়। আর তৎক্ষনাৎ পাশের সারিতে অগ্রগামি অবস্থানে অপেক্ষমান তিন তরুণ হন্তদন্ত হইয়া কহিলেন, ‘স্যার, আপনি! আপনি এইখানে? এই মুত্রালয়ের অপেক্ষমান সারিতে আমাদের কাতারে দণ্ডায়মান!  অথচ আপনার অটোগ্রাফের কাতারে কেবলই আমরা দন্ডায়মান থাকি। ইহাকেই বলে উচিত বিচার, আহা, একী হেরিলাম নয়নে মরমে!’

 

আমি যথাসম্ভব মুখমণ্ডল খানিকে সুশোভিত রাখিয়া কহিলাম, ‘দুর্ভাগ্যজনক হইলও সত্যি এই যে পুস্তক না পড়িয়াও বাঁচিয়া থাকিতে পারিবে, কিন্তু মুত্রত্যাগ না করিয়া পারিবে না। সুতরাং অটোগ্রাফের তুলনায় মুত্রত্যাগের সারি অধিকতর  গুরুত্বপূর্ণ! ‘

 

তাহারা কী বুঝিলো কে জানে, অকস্মাৎ তিন তরুণই তাহাদের অগ্রগামি অবস্থান ছাড়িয়া দিয়া বিনয়ের সঙ্গে কহিলো, ‘স্যার, অনুগ্রহ করিয়া আপনি সম্মুখে আসিয়া অবস্থান গ্রহণ করুন। আপনার জলবিয়োগ পূর্বক আমরা জলবিয়োগ করিবো’।

 

সেই মুহূর্তে যেন বসন্তের মাতাল সমীরণ প্রবাহিত হইতে লাগিলো, কোকিলের কুহুতানে সরব হইয়া উঠিল জগত সংসার, গাছে গাছে শিমুল-পলাশ ফুটিতে লাগিলো। পত্র-পল্লবে সুশোভিত প্রকৃতি যেন চারিধার হইতে লেখকের মহিমা ঘোষণা করিতে লাগিলো। সগৌরবে প্রকাশ করতে লাগিলো লেখকের শোভা ও সম্মান। যেই দেশের বইমেলার মুত্রালয়ের সুদীর্ঘ সারিতে একজন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র লেখকও এহেন অগ্রাধিকার প্রাপ্ত হন, সেই দেশের সাহিত্য রুখিবে সাধ্য কার!!’