মাওলানা পরকীয়ার ঘটনা প্রকাশ করে দেয়ায় শিক্ষার্থীকে রশি দিয়ে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন

0
24

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি মসজিদে হাফেজিয়া মাদ্রাসার মাওলানার পরকীয়ার ঘটনা প্রকাশ করে দেয়ায় রবিউল ইসলাম মোল্লা নামে (১৩) এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে রশি দিয়ে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ওই মাওলানার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় নির্যাতিত শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত মাওলানা শাহজালালকে গ্রেফতার করেছে। একই সাথে মূমূর্ষ অবস্থায় শিক্ষার্থী রবিউলকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার পশ্চিম কালাদী এলাকায় মদিনা মসজিদের হিফজখানায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।

নির্যাতিত শিক্ষার্থী শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানাধীন গরজিপাড়া এলাকার আজিজ মোল্লার ছেলে। তার বাবা একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা। রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন এলাকায় মজিবুর মিয়ার বাড়িতে তারা ভাড়ায় বসবাস করে।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর পিতা আজিজ মোল্লা জানান, কাঞ্চন এলাকার মজিবুরের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে। এখানে ঝাল মুড়ি বিক্রি করেন তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। তার ৪ সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে রবিউল ইসলাম মোল্লাকে কোরআনের হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে তিনি স্থানীয় কালাদী মদিনা মসজিদের হিফজখানায় কোরআন শিক্ষার জন্য ভর্তি করান। ওই মসজিদের হিফজখানার মাওলানা শাহজালাল স্থানীয় এক বিবাহিতা নারীর সাথে পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনা জেনে গিয়ে হিফজখানার কয়েকজন শিক্ষার্থী মাওলানার স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানিয়ে দেয়।

এ নিয়ে মাওলানা শাহজালালের সাথে তার স্ত্রীর কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া বিবাদ হয়। এর জের ধরে মাওলানা শাহজালাল শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম মোল্লাকে দোষী অভিযুক্ত করে বুধবার সকালে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে আটকে রেখে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে আহত করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী রবিউল জ্ঞান হারালে তার চোখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে পুনরায় একইভাবে পিটিয়ে নির্যাতন করেন সেই মাওলানা। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে মুমূর্ষু অবস্থায় শিক্ষার্থী রবিউলকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পিতা আজিজ মোল্লা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মাওলানা শাহজালালকে গ্রেফতার করে।