টেকনাফের লেদায় এক রোহিঙ্গা পরিবারকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে

0
7

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে যখন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চলছিল। ঠিক তখনিই ভারত থেকে অবৈধভাবে পালিয়ে আসা কক্সবাজারের টেকনাফের লেদায় এক রোহিঙ্গা পরিবারকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ভারত থেকে আসা এক রোহিঙ্গা পরিবারকে ইউএনএইচসিআর মাধ্যমে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়েছে। এ তথ্যটি  নিশ্চিত করেছেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার।

তিনি বলেন, সোমবার দুপুরে তাদের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শরণাথী শিবির থেকে আইওএম হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাদেরকে ইউএনএইচসিআর মাধ্যমে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়েছে। তারা হলেন-মোহাম্মদ সাদেক(২৫),তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম(২৪), ছেলে মো. পারভেজ(৩)ও মেয়ে সাজেদা বেগম(১০মাস)।

রোহিঙ্গারা জানান, সোমবার ভোররাত ৫টার দিকে খুলনা থেকে সড়কপথে গাড়িতে করে লেদা রোহিঙ্গা শরণাথী শিবিরে ই ব্লকের এক নিকট আত্মীয় মোস্তাক আহমদের বাসায় আসেন পরিবারটি। দুপুরের দিকে বিষয়টি অন্যান্য রোহিঙ্গাদের মধ্যে জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাদের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সহকারী ও শিবির ইনচার্জের (সিআইসি)কার্যালয়ে নিয়ে যান।

টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি ও শিবির ইনচার্জের (সিআইসি) মোহাম্মদ হান্নান এ প্রসঙ্গে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গত রোববার রাতে ভারতের হায়দারাবাদ থেকে বাংলাদেশে আসেন। তাদের ইউএনএইচ সিআর ও আইওএমর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, ভারত থেকে আসা এক রোহিঙ্গা পরিবারকে (সিআইসির) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই পরিবারটিকে প্রথমে শিবিরের আইওএম চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওযার পর তাদের কিছু পরীক্ষা-নিরিক্ষা করা হয়। এরপর ওই পরিরারের চারজন সদস্যকে ইউএনএইচসিআর মাধ্যমে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ নেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা পরিবারটিকে কোয়ারেন্টাইন নেওয়া হয়েছে। তারা সুস্থ রয়েছেন। বিদেশ ফেরতদের ১৬৭ জনের তালিকায় অনেককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে শুধুমাত্র ৩৩জন ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা রয়েছে। বাকী ১৩৪ জনের কোনো ধরনের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।