আম্পানের প্রভাবে খুলনার সুন্দরবন আট এলাকা প্লাবিত

0
7

সুপার সাইক্লোন আম্পানের প্রভাবে খুলনার সুন্দরবন সংলঘ্ন কয়রা থানার অন্তত আট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। রাতে ভাঙন হওয়ায় এবং সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

বেড়িবাঁধ ভাঙা এলাকাগুলো হচ্ছে- দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ছোট আংটিহারা, একই ইউনিয়নের গোলখালি ও চোরা মুখা খেয়া ঘাট, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাজিপাড়া বেড়িবাঁঘ ও একই ইউনিয়নের কাশির হাট সংলগ্ন ভেড়ীবাঁধ। কয়রা সদর ইউনিয়নের হরিণখোলা বেড়িবাঁধ ভেঙে এখাকায় পানি প্রবেশ করছে।

মহারাজপুর ইউনিয়নের লোকা হামকুড়ুর গোড়া ও দশহালিয়া মজিবার মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে ভিতরে পানি ঢুকছে।

অন্যদিকে ৩নং মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান বিজন কুমার সরদার জানান, আমার এলাকায় একাধিক যায়গায় প্লাবিত হওয়ার খবর পেয়েছি। ঝড় শেষ হলে ঘটনাস্থলে যাবো।

তেতুলতলা, শেখের কোনা, কাঠকাটা, যতিন বাবুর বাড়ির সামনে, হারান মন্ডলের বাড়ির সামনে, নয়ানি গেট সংলগ্ন, শিকারী বাড়ি, সিঙ্গের কোনা, ভাগবা, হড্ডা শিবসার নদির ধারসহ উক্ত ভেড়িবাঁধগুলো অত্যান্ত ঝুঁকি পূর্ণ বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কয়রা ও পাইকগাছা থানার সংসদ সদস্য (খুলনা-৬) আকতারুজ্জামান বাবু সময় সংবাদকে বলেন, এলাকায় ভয়াবহ অবস্থা। রাত হওয়ায় সঠিন ক্ষয়ক্ষতি বলা যাচ্ছে না। তবে ইতোমধ্যে কয়রার পাঁচ ইউনিয়ন ও পাইকগাঝাছায় তিন ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছি।

তিনি বলেন, পূর্বে সিডর ও আইলার ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি এলাকার মানুষ। তার ওপর এই ক্ষতি কীভাবে সামলানো যায় তা নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি। এ বিষয়ে কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন করিব বলেন, আমার ইউনিয়নের একাধিক জায়গায় ভেঙে প্লাবিত হয়ে গেছে। সকাল হলে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বলা যাবে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সময় সংবাদকে বলেন, এলাকার পরিস্থিতি খুব খারাপ। এমপি মহোদয়সহ আমরা একত্রে সার্বিক বিষয় খোঁজ খবর রাখছি। বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাচ্ছি। সকাল হলে বিস্তারিত বলতে পারব।

কয়রা সদরের বাসিন্দা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক আল আমিন ফরহাদ বলেন, কয়েকটি ইউনিয়ন ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। আমার পারিচিত বহু মানুষের বাড়ি ঘরে পানি উঠেছে।

ভেঙে যাওয়া ঘাটাখালি এলাকার গোবরা গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী তারিক লিটু রাত ১২টার দিকে সময় সংবাদকে বলেন, আমার গ্রামে ইতোমধ্যে পানি উঠেছে। আমার বাড়ি ডুবে গেছে। পরিবার নিয়ে বর্তমানে রাস্তায় অবস্থান করছি। গ্রামের সবার একই অবস্থা। পানি যেভাবে ঢুকছে তাতে কিছুক্ষণের মধ্যে সদর ইউনিয়ন ডুবে যাবে।

এদিকে রাতে ঢাকার আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান,  বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’ আরও উত্তর-উত্তরপূর্বে দিকে অগ্রসর হয়ে উপকূল অঞ্চল অতিক্রম সম্পন্ন করে বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝড়িয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টি সাগরদ্বীপের উপকূল ধরে সাতক্ষীরা হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এটি খুলনা, যশোর, মাগুরা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও জামালপুরের উপর দিয়ে চলে যাবে। এবং ক্রমশ দুর্বল একটি অংশ সিলেটে প্রবেশ করার আশঙ্কা রয়েছে।