লিজেন্ডদের শিখাবো কিভাবে ২০২০ সালে মিউজিক করতে হয়- নোবেল

0
34

এখন পর্যন্ত নোবেলের কণ্ঠে কবি শ্রীজাত এর লেখায় শান্তুনু মৈত্রের সুরে আগুন পাখি এবং অনুপম রায়ের কথা ও সুরে তোমার মনের ভেতর শিরোনামের গানটি ছাড়া কোন মৌলিক গান শ্রোতারা পায়নি, মানে প্রকাশ হয়নি। কিন্তু মাইনুল আহসান নোবেল এরমধ্যেই তার গানের ক্যারিয়ারের শুরুতেই ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন।

তিনি প্রথম সমালোচনা করেছেন আমাদের জাতীয় সংগীতকে প্রিন্স মাহমুদের লেখা এবং সুর করা নগর বাউল জেমসের কণ্ঠে ‘বাংলাদেশ’ শিরোনামের এই গানটির সাথে তুলনা করে। এমন অর্বাচীন মন্তব্যের জন্য নোবেলকে নিয়ে সংগীত অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। এমনকি সারেগামাপা’র অন্যতম বিচারক শ্রীকান্ত আচার্য নোবেলকে সংবেদনশীল হওয়ার কথা বলেছিলেন ।

এবার তিনি দ্বিতীয় সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ‘লিজেন্ডদের শিখাবো কিভাবে ২০২০ সালে মিউজিক করতে হয়’ মন্তব্যটি করে। শিল্পীদের বিনয়ী হতে হয়। শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন সংগীত হচ্ছে ভালবাসার খাদ্য। যারা সংগীতকে ভালবাসে তারা কখনো অহংকারী হয় না। তাদের মন শিশুদের মতো পবিত্র থাকে , কোমল থাকে।

বাংলাদেশ বহুমাত্রিক গানের দেশ। পৃথিবীতে ভাষার জন্য এত গান, স্বাধীনতার জন্য এত গান আর কোথাও লেখা হয়নি কিংবা গাওয়া হয়নি। নোবেল বাংলাদেশের ছেলে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। ভারতের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল জি বাংলায় সংগীত বিষয়ক রিয়েলিটি শো সারেগামাপা’তে নোবেল বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছিল। বাংলাদেশের মানুষ তাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন। যৌথভাবে নোবেল তৃতীয় হয়েছিল। এটা অনেকেই মানতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষ নোবেলকে প্রথম হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। এই চাওয়াটা অন্যায় ছিল না। নোবেলের কণ্ঠে জেমসের মা, আইয়ুব বাচ্চুর হাসতে দেখো, নচিকেতার বৃদ্ধাশ্রম, অরিজিৎ সিং এর হার কিসিকো নিহি মিলতা, গানগুলো দুই বাংলার মানুষের হৃদয় কেড়ে নিয়েছিল।

সেদিন নোবেলকে প্রথম না করায় বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবাদ করেছে। বিচারকদের রায় নিয়ে নানা সমালোচনা করেছেন গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেইসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়েছেন দেশে বিদেশে তার অগণিত ভক্তরা। আজ সেই ছেলেটি কিনা তার অগ্রজদের অপমান করে, তিরস্কার করে। এদেশের লিজেন্ডদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়? এটা কোন গায়ক করতে পারে না। এটা করা উচিত নয়। তার পরিচয়ের জায়গা, তার শেকড়টাকে চিনতে হবে আগে। সে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে এটা হাসন, লালনের দেশ। ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালির দেশ। আমাদের গানের দেশ, প্রাণের দেশ।

জানি না কেন নোবেল এসব মন্তব্য করেছেন? বুঝে করেছেন নাকি না বুঝেই করেছেন? কেউ কেউ বলছে সে আলোচনায় থাকার জন্য এসব মন্তব্য করেছেন। আমি মনে করি আলোচনায় থাকার জন্য মন্তব্য নয় কাজ করতে হবে। উইলিয়াম সেক্সপিয়র বলেছেন ‘টকারস আর নট গুড ডুয়ারস’। যারা বেশি কথা বলে তারা কাজ করে কম। কাজের মধ্যে দিয়েই তাকে টিকে থাকতে হবে। নিরবে কাজ করে যেতে হবে। ‘এ ট্রি এজ নোন বাই ইটস ফ্রুটস’ এই কথাটি মনে রাখতে হবে নোবেলকে।

সে মন্তব্যটি বুঝেই করুক আর না বুঝেই করুক। মন্তব্যটি অপমানজনক। এই ভুলটি তার স্বীকার করতেই হবে। এই মন্তব্যটির জন্য তাকে ক্ষমা চাইবে হবে। এদেশের সংগীতের লিজেন্ডের কাছে, তার অগ্রজদের কাছে। ভুল করা দোষের নয়। কেউ ভুল ত্রুটির উর্ধ্বৈও নয় । ভাবতে অবাক লাগে, একদিন নোবেলকে টিকিয়ে রাখার জন্য যারা ফেইসবুকে তুমুল ঝড় তুলেছিল আজ তারাই তার তীব্র নিন্দা করছে। তাকে কটাক্ষ করে বিরূপ মন্তব্য করছে। কেন এমনটি হবে ?

মুহাম্মদ হানিফ নামে একজন ফেইসবুকে মন্তব্য করেছেন বন বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,এই বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণিকে সংরক্ষণ করা হোক। নয়তো যে কোন সময় এই প্রাণিটিও বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। আবার একজন লিখেছেন নোবেল বাংলাদেশের রানু মন্ডল। আমরা কারো কাছ থেকে এরকম অশোভন মন্তব্য শুনতে চাই না। আমরা চাই একদিন নোবেল বাংলাদেশের হয়ে  লড়াই করেছিল। সেরকম লড়াই ভবিষ্যতেও করবে বাংলাদেশের সংগীতকে আরো অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তা অবশ্যই তার অগ্রজদের সম্মান দিয়ে। তাদের মনে কষ্ট দিয়ে নয় ।

একজন গায়ককে মানুষ ভালবাসবে, শ্রদ্ধার চোখে দেখবে । একজন গায়ক মৃত্যুর পরেও অগণিত মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে তার গাওয়া গানের মাধ্যমে । বাংলা গানের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীকে আজো মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে । ভালবেসে তাঁর গান শোনে । সে নেই কিন্তু তাঁর গানের মধ্যেই আমরা তাঁকে খুঁজে পাই। এখানেই তিনি অমর। বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর গান আমরা শুনি। তাঁকে ভালবাসি। তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এখানেই তিনি স্মরণীয়। একজন গায়ক হিসেবে এই জায়গাটি তৈরী করতে হবে নোবেলকে তার গানের মাধ্যমে।