চীনের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন প্রথমেই পাবে বাংলাদেশ

0
28

করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সফলভাবে কোনো ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে যাবতীয় সহযোগিতা ও সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দিবে চীন, এমনটাই জানিয়েছে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান।

রোববার (২১ জুন) ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান আরও বলেন, বাংলাদেশ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীন নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির জন্য চীনের ৫টি সংস্থা কাজ করছে। বাংলাদেশকে ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়াকে চীনের সাথে কূটনীতির ফসল বলেও মনে করছেন তিনি।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপি বলেছেন, ‘চীন করোনা ভ্যাক্সিন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাঁদের কাজে অগ্রগতিও অনেক। এই ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হলে সবার আগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে পাঠাবে বলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চীনের আক্রান্ত সময়ে বাংলাদেশ যেভাবে পাশে ছিল চীন সরকার সেই উদারতার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জন্য সবার আগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিবে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভি.আই.পি লাউঞ্জে চীন থেকে আগত ১০ জন প্রতিনিধিকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপিস্থিত থেকে এক প্রেস ব্রিফিং এ এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপি।

ব্রিফিং এ এক প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ মালেক জানান,‘করোনায় আক্রান্তের হার এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে আরো দুই হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি আগামীতে যেরকম হবে সরকার সেভাবেই বুঝেশুনে পদক্ষেপ নিবে।’

প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান ‘কোভিড প্রতিরোধে বাংলাদেশের কাজে চীনা দল সন্তুষ্ট হয়েছে, তবে কোভিড মোকাবেলায় আরও কিছু জায়গায় উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে বলেও প্রতিনিধি দল সরকারকে জানিয়েছেন। আমরাও সামনের দিনগুলোতে চিহ্নিত জায়গাগুলো নিয়ে আরো কাজ করবো।

কীট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী পরিমানে কীট পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বর্তমান বিশ্বের সব দেশেই কীটের চাহিদা রয়েছে। তবে যা মজুদ আছে তাতে ঘাটতি হওয়ার কথা না। কোন কারণে সংকট তৈরি হলেও তা খুব দ্রুতই মেটানোর ব্যাবস্থা সরকারের হাতে নেয়া রয়েছে। কাজেই কীট নিয়ে এই মুহুর্তে উদবেগের কোন কারণ নেই।’

করোনায় যে হারে প্রতিদিন রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে মানুষ অধিক সচেতন না হলে সব হাসপাতাল করোনা রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। এ কারণে করোনা মোকাবেলায় দেশের মানুষকে আরো বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি করোনা মোবাবেলায় স্বাস্থ্যখাতে বাজেট আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে চায়না রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জুয়ো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে তা সবার আগে বাংলাদেশ পাবে বলে নিশ্চিত করে বক্তব্য রাখেন।

ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে থেকে বক্তব্য রাখেন। ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে চায়না থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দসহ স্বাস্থ্যখাতের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।