রোগীর মরদেহ আটকে রেখে বিল আদায়ের অভিযোগ

0
27

রাজধানীর মালিবাগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড রোগীর মরদেহ আটকে রেখে গলাকাটা বিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জোর করে আইসিইউতে রেখে পাঁচদিনে দেড় লাখের বেশি বিল ধরিয়ে দেয়া হয় বলে দাবি স্বজনদের। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

একজন বলেন, কি চিকিৎসা হয় আমি জানি না। এখানে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মারামারি চলতে আছে। রোগীকে আটকে রেখেছে, টাকা না দেয়ায় তার মরদেহ দিচ্ছে না।

পুলিশের এক সদস্য বলেন, এখানে কয়েকজন বন্ধু এসেছে করোনা পরীক্ষা করাতে, তাদের সবার নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়েছে। তারা বলছে, তাদের মধ্যে কারোই করোনা পজিটিভ হয়নি। কিন্ত তাদের পজিটিভ পাওয়া গেছে। তবে এখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো না। রাজধানীর মালিবাগের বেসরকারি এ হাসপাতালটি নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরছিলেন স্থানীয়রা।

১৪ জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা ডা. মহিউদ্দীন পারভেজ। ভর্তির সময় তার শারীরিক অবস্থা বেশ ভাল ছিল বলে দাবি স্বজনদের। কিন্তু পারভেজকে জোর করে আইসিইউতে পাঠান পরামর্শক চিকিৎসক। ১৮ জুন ভোররাতে মৃত্যু হয় তার। এরপর ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত আটকে রাখা হয় লাশ।

মৃত রোগীর ছোট ভাই জসিম উদ্দিন রুবেল বলেন, প্রতিদিন সাড়ে ১২ হাজার টাকার ওষুধ আর সাড়ে ৪ হাজার টাকার ও টেস্ট বিল। কি টেস্ট করেছি তা আমরা জানি না। আজ কখন আমার ভাই মারা গেছে, তা আমরা জানি না। তবে লাশ নিতে গেলে আমাকে একটি রুমে আটকে রাখে, এবং বলে আগে টাকা দে, পরে লাশ আর তোকে ছাড়বো।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপক। প্রশান্তি হাসপাতালের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, ওনারা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য দিয়েছে। তারা আসলে তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতে ছিল না।

হাসপাতালটির এক কর্মকর্তা বলেন, আমি তাদেরকে বলেছি, যে ওনার যদি করোনা থেকে থাকে। তাহলে বলে হবে, কারণ আমার এটা করোনা হাসপাতাল না। এবং তথ্য গোপনের জন্য কিন্ত আমরা আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারি। সেটা তারা স্বীকার করেছে এবং অঙ্গিকারনামা ও দিয়েছে।

করোনা রোগী জেনেই রোগী ভর্তি করা হয় বলেও জানান স্বজনরা।