আইন শিক্ষানবিসদের ৩০ জুন দেশব‌্যাপী মানববন্ধন কর্মসূ‌চি ঘোষনা।

0
68

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বছরে ২ বার তালিকাভুক্তকরণ পরীক্ষা গ্রহনের বিধান থাকলেও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তা’ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত অন্তত বছরে ১বার তালিকাভুক্তকরণ পরীক্ষা চলে আসছিল।কিন্তু তারপরেই বিধি বাম! শুরু হলো আড়াই বছর -৩ বছর মেয়াদি তালিকাভুক্তকরণ পরীক্ষা। তা’ও অনিশ্চিত! কবে কোন সালে পরীক্ষা হবে তা’ কেউ জানেনা।

২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বনাম দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি মামলায় আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের ১২নং নির্দেশনায় ছিল — The Bar Council shall Complete the enrollment process of the applicant to be enrolled as Advocates in the district court each Calendar year.

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের এই নির্দেশনা প্রদানের পর বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইন শিক্ষানবিশদের কঠিন আন্দোলনের মুখে ২০২০ সালে যাও প্রিলিমিনারী (এমসিকিউ) পরীক্ষার আয়োজন করলেন কিন্তু রিটেন পরীক্ষার কোন সিডিউল ঘোষণা করেননি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে শুরু হয়ে গেলো বৈশ্বিক মহামারী কভিড-১৯ এর আক্রমণ। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এই সুযোগে অদৃশ্য কারনে সম্পূর্ন নিশ্চুপ হয়ে যায়।

বাংলাদেশে কভিড -১৯ এর আক্রমণের পূর্বে থেকেই আইন শিক্ষানবিশদের বিভিন্ন সংগঠন লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণাসহ বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রতিশ্রত লিখিত পরীক্ষার খাতায় OMR পদ্ধতি চালু করার জন্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে আসছিলো। কিন্তু বার কাউন্সিল এসব বিষয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই।

এমনিতেই বার কাউন্সিল এমসিকিউ পরীক্ষা থেকে লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখা ভাইবা পরীক্ষা গ্রহণ করতে নূন্যতম ১৭-১৮ মাস সময় ব্যায় করে। পুরো প্রক্রিয়াটা পৃথিবীর দীর্ঘতম সময়কাল ধরে পরীক্ষা গ্রহন পদ্ধতির একটা।

যেহেতু ২০১৭ সালের এমসিকিউ পরীক্ষার আড়াই মাসের মাথায় লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। চলতি বছরে এমসিকিউ পরীক্ষার পর ৪ মাস অতিবাহিত হতে শুরু করেছে কিন্তু এখনো লিখিত পরীক্ষার সিডিউল ঘোষণা করা হয়নি।অন্যদিকে পুরো দেশ মহামারী করোনার আক্রমণে নিমজ্জিত। আরো ২-৪-৬ মাসে এ ভয়াবহতম মহামারীর হাত থেকে পরিত্রান পেতে পারে এর কোন লক্ষন আছে বলে মনে করে না। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট প্রসেস পরবর্তী দেড় -দুই বছরেও শেষ করতে পারবে এর মিনিমাম গ্যারান্টি নেই। এছাড়া লিখিত পরীক্ষায় OMR পদ্ধতি চালু করা না হলে পরীক্ষায় চরম দূর্নীতির আশংকাতো রয়েছেই। ২০২০ সালের মধ্যে যেহেতু এনরোলমেন্ট প্রসেস শেষ করার কোন লক্ষনই নেই। অন্যদিকে দেশজুড়ে ৭০,০০০ আইন শিক্ষানবিশ এনরোলমেন্ট পরীক্ষার অপেক্ষায় লাঞ্চনা-গঞ্চনার মধ্যে দিনাতপাত করছে।

যেহেতু একদিকে দেশ বৈশ্বিক মহামারীর আক্রমণ এ পর্যুদস্ত অন্যদিকে ২০২০ সাল মুজিব বর্ষ বিধায় উচ্চতর আদলতের নির্দেশনা কার্যকর করার জন্যে চলতি বছরে ২০১৭ এবং ২০২০ সালে এমসিকিউ উর্ত্তীর্ন শিক্ষানবিশদের সনদ প্রদান করে আইনের ছাত্রদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ মুক্তি দিয়ে বাধিত করিবেন বলে বিশ্বাস করি।

একই সাথে ২০২১ সাল হইতে প্রতি ক্যালেন্ডার ইয়ারে এনরোলমেন্ট পরীক্ষা গ্রহণ করে আইনের ছাত্রদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রনা থেকে পরিত্রান দিবেন বলে আমাদের দৃঢ বিশ্বাস।।