সিলেটে অপরাধ দমনে বিশেষ টাক্সফোর্স গঠনসহ ৪ সিদ্ধান্ত, থাকছে ‘অভিযোগ কেন্দ্র’

0
5

সিলেটে অপরাধ দমনে বিশেষ টাক্সফোর্স গঠনসহ ৪ সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আজ শনিবার 
সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সিলেট মহানগরীর সামাজিক নিরাপত্তা আরোমজবুত ও টেকসইকরণে ‘আমাদের করণীয়’ শীর্ষক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সিলেটে ধর্ষণসহ অপরাধ দমনে উপস্থিত সুধীজনের পরামর্শমতে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেগুলো হচ্ছে- নগরভবনে অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন, প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে নাগরিক কমিটি গঠন, নিয়মিত পরামর্শ সভা করা ও একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা।
দুপুরে নগরভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এমসি কলেজ সহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজন ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে সিলেট মহানগরীর সামজিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট একটি আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগরী। এই নগরীর ধর্মীয় সম্প্রীতি আর ভিন্নমতে সহনশীলতায় রয়েছে রাজনৈতিক সম্প্রীতির দীর্ঘ ইতিহাস। তাই আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সিলেটকে একটি শান্তি ও সম্প্রীতির নগর হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য নগরবাসির সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
সিসিক মেয়র বলেন, সিলেটের সকল সামাজিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবি সংগঠন, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে সিলেট সিটি করপোরেশন মহানগরীর সামাজিক নিরাপত্তা টেকসইকরণে একটি ‘বিশেষ টাক্সফোর্স’ গঠন করবে।
নগর ভবনে খোলা হবে একটি ‘অভিযোগ কেন্দ্র’। যেখানে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ করতে পারবে এবং সিসিক তাদের আইনি সহায়তা প্রদান করবে।
নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলদের সমন্বয়ে গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় আরো মজবুত করতে গঠন করা হবে একটি ‘নাগরিক কমিটি’। সিসিকের উদ্দ্যোগে প্রতি মাসে সকলকে নিয়ে এ ধরণের পরামর্শ সভা আয়োজন করা হবে বলেও জানান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেট মহানগরীতে অপরাধ প্রবনতা বেড়েছে উল্লেখ্য করে পরামর্শ সভায় বক্তরা নগর জুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উপর গুরুত্ব দেন। বক্তরা বলেন, বিশেষ করে নারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অপরাধিরা যাতে কোন দল বা রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় না পায় তার জন্য নগরবাসিকে সোচ্ছার হতে হবে। অভিবাবকদেরও আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন বক্তরা।
সামাজিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নাগরিকদের দাড়াতে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহবান জানান বক্তারা। একই ধরনের ঘটনায় দ্রুত এবং দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় সামপ্রতিক সময়ে ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, অপরাধিদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে না পারলে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আরো হবে। তাই সবাইকে দল মতের উর্ধ্বে উঠে অপরাধের বিরোদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।