আওয়ামী লীগ অন্য দেশের দয়ায় ক্ষমতায় আছে: রিজভী

0
13

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কালকে একটা কথা বলেছেন মুজিববর্ষে মানুষকে আমি সুন্দর জীবন দিব। আল্লাহর দোহাই প্রধানমন্ত্রী আপনি আর জনগণকে সুন্দর জীবন দিয়েন না। আপনি মুজিববর্ষের শুরু থেকে এই ছয় মাসে যে সুন্দর জীবন দিয়েছেন, তাতেই ফেনী থেকে বেগমগঞ্জ, বেগমগঞ্জ থেকে সিলেট, সিলেট থেকে সিরাজগঞ্জ শুধু আর্তনাদ।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাবি অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ বিএনপিমনা শিক্ষকদের চাকুরিচ্যুতের প্রতিবাদে বাংলাদেশ শিক্ষক সমন্বয় কমিটি আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার এই ছয় মাসের সুন্দর জীবন হবে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের। তারা আনন্দে থাকবে আরও কত ক্যাসিনো গড়ে উঠবে। কত তরুণী লাঞ্ছিত হবে। আপনি আর সুন্দর জীবন দিয়েন না। এবার আপনি পদত্যাগ করুন। জনগণ একটু স্বস্তিতে থাকতে পারবে।

‘কারও দয়ায় ক্ষমতায় নেই আওয়ামী লীগ’ গতকাল দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের দয়ায় আপনারা তো ক্ষমতায় নেই এটা তো সত্যি। সত্যি কথাই বলেছেন ওবায়দুল কাদের। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে তারা তো ক্ষমতায় নাই। তারা অন্য দেশের দয়ায় ক্ষমতায় আছেন। তবে দেশের জনগণের দয়ায় নয়।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারকে সময় দেওয়ার বিএনপি কে? সরকার টিকে আছে জনগণের ইচ্ছায়, কারও দয়ায় নয়। ক্ষমতা দেয়া ও টিকিয়ে রাখার মালিক একমাত্র সৃষ্টিকর্তা।

এ সময় রিজভী আরও বলেন, সরকারের গত ১২ বছরের শাসনামলে শুধু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন হয়েছে। বাদ জায়নি ৫ বছরের শিশু থেকে ৭২ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্তও। এগুলোর চমৎকার উন্নয়ন ঘটিয়েছেন তিনি। এছাড়া এই আমলে মাদকের ছড়াছড়ি। মাদক ছাড়া কোনো কিছু কল্পনা করা যায় না। মাদকের সঙ্গে মাদক কারবারিরা যুক্ত থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে কিছু মন্ত্রীর কথা শুনে মনে হচ্ছে মাদকের বিস্তার মন্ত্রিসভা পর্যন্ত লাভ করেছে।

ঢাবির শিক্ষক মোর্শেদ হাসান খানকে চাকুরিচ্যুত করার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মোরশেদ খান একজন তারুণ্যদীপ্ত শিক্ষক। তার স্ত্রী যখন ক্যান্সারে ভুগছেন, সেই সময় তিনি বার্তা পেলেন তার চাকরি নেই। শুধুমাত্র ভিন্নমতের কারণে। আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ছিলাম, সিন্ডিকেট মেম্বার ছিলাম। ৭৩ এর অ্যাক্টে যে বিধান রয়েছে সেটা আমার মোটামুটি জানা আছে। ভিন্নমতের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরি যেতে পারে না।