একজন পুলিশ কতটা অসৎ ও নীতিবিবর্জিত হতে পারে

0
10

 

একজন পুলিশ কতটা অসৎ ও নীতিবিবর্জিত হতে পারেন সে প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই পাওয়া গিয়েছিল যখন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা হত্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশকে গ্রেপ্তারের পর তার কৃতকর্ম প্রকাশিত হয়। সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে রায়হান আহমদ নামে এক যুবকের মৃত্যুতে ওই ফাঁড়ির বহিষ্কৃত ও পলাতক ইনচার্জ উপপরিদর্শক আকবর হোসেন ভুইয়ার কৃতকর্ম আরও একবার সে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বগইর গ্রামের আকবর ২০০৭ সালে কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। ২০১৪ সালে তিনি উপপরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান। গত বছরের ৬ নভেম্বর থেকে বন্দরবাজার ফাঁড়ির দায়িত্ব নিয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকে আকবর অপকর্মের পথেই হেঁটেছেন। বরং পূর্বসূরিদের অপকর্মকে ছাড়িয়ে গেছেন। রায়হান হত্যার পরে আকবর পালিয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগীরা এখন জানাচ্ছেন তার অপকর্মের কথা। বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজারের রাস্তার হকার এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ফাঁড়ির নিয়মিত চাঁদাবাজির কথা। মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়েই চাঁদা দিতে হতো তাদের। শুধু রাস্তা বা দোকান নয়, আকবরের অপকর্ম প্রসারিত হয়েছিল সাধারণ মানুষের ঘর পর্যন্ত। তেমনই এক ভুক্তভোগী নগরীর বারুতখানা এলাকার আব্দুল আলিম মুক্তা। গত ১৫ এপ্রিল রাতে তার বাড়িতে ঢুকে ৪০ হাজার টাকা না দিলে মাদক মামলা দেবেন বলে হুমকি দেন আকবর। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তার বাসা থেকে ২১টি ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে উল্লেখ করে মাদক মামলা দায়ের করেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর ভাই। তেমন আরেক ভুক্তভোগী খাদিমপাড়া এলাকার জিনাস লিসা। গত ১৭ এপ্রিল সিলেটের মিরবক্সটুলা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে তার স্বামীর কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তার স্বামীর ওপর হামলা চালালে লিসা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। এরপর ঘটনাস্থলে আসেন আকবর। এসেই তিনি হামলাকারীদের পক্ষ নেন। পাঁচ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর পেটে লাথি মারেন স্থানীয় আরেক নারী। কিন্তু আকবর লিসার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যান। দাবি করা ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সেদিনই ওই নারী ও তার স্বামীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন আকবর। ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, পরদিন আদালত থেকে জামিন পান। এক সপ্তাহ পরে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। আরও বেশি হেনস্থার ভয়ে তারা কোনো আইনি ব্যবস্থা নেননি। ফাঁড়ি ইনচার্জ হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে কোতোয়ালী থানায় কর্মরত অবস্থায় এসআই আকবরের বিরুদ্ধে সুরতহাল রিপোর্ট পরিবর্তন ও অসত্য তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের অভিযোগ রয়েছে।