টানা বর্ষণে বাগেরহাটে ভেসে গেছে ১০ হাজারেরও বেশি মাছের ঘের

0
8

 

টানা বর্ষণে বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে ১০ হাজারেরও বেশি মাছের ঘের ও পুকুর। বিশেষ করে জেলার মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। এদিকে পানি কমতে শুরু করলেও হাসি নেই মৎস্যচাষিদের মুখে। ঘেরের মাছ বের হয়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেকে। বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণে এই দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামের মৎস্যচাষি রবিউল ইসলাম বলেন, দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে ঘেরের প্রায় ৭ লাখ টাকার মাছ বের হয়ে গেছে। শুধু আমার নয়, আমার এলাকার বিভিন্ন অনেক চাষির ঘের ও পুকুর ডুবে গেছে। শরণখোলা উপজেলার গোলবানু, মহিবুন্নাহার, ছাহেরা বেগম, হাওয়া বেগম, শাহিনুর বেগমসহ কয়েকজন জানান, বৃষ্টিতে আমাদের থাকার ঘর, গোয়াল ঘর ডুবে গেছে। রান্নাঘর ডুবে যাওয়ায় দু’দিন ধরে দোকান থেকে চিড়া, মুড়ি ও রুটি কিনে খাচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি না নামলে দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। শরণখোলা উপজেলার রাজৈড় গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী সোহেল ফরাজী ও সোবহান শেখ বলেন, এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মাছ ছেড়ে ছিলাম। কিছুদিন পর মাছ বিক্রি করার ইচ্ছা ছিল। বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল আমার। এখন কীভাবে চলবে জানি না। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, বৃষ্টিতে আমার উপজেলার ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। আমরা তাদের সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. খালেদ কনক বলেন, অবিরাম বর্ষণে বাগেরহাটের ৯ হাজার ৭৬১টি মৎস্য ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। এতে চাষিদের প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, এই ক্ষতি পোষাতে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে দাবি করেছেন বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি মহিতুল ইসলাম সুমন। তিনি বলেন, প্রত্যেক দূর্যোগে বাগেরহাটের মৎস্য চাষিরাই বেশি ক্ষতির শিকার হন। কিন্তু সরকারি হিসাবে এসব ক্ষতির পরিমাণ কম দেখানো হয়। এবারের বৃষ্টিতে বাগেরহাটের ১৫ হাজার ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। চাষিদের ক্ষতি পোশাতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।