হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে লাখো মানুষের ঢল, ফ্রান্স দূতাবাস বন্ধে আল্টিমেটাম

0
32

মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ হাবিবঃ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, ”ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিপূর্ণভাবে চ্ছিন্ন করতে হবে। ফ্রান্সের জাতীয় পণ্য বর্জন করতে হবে আমাদের। এটা ঈমানের দাবি। রিজিকের মালিক আল্লাহ, ফ্রান্সের পণ্য বর্জন করলে আমাদের কিছুই হবে না।”

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচির মিছিল থেকে এ ঘোষণা দেন হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

এ সময় তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনীর প্রতিবাদে জাতীয় সংসদে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাস করার দাবি তোলেন। পাশাপাশি ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন, রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার ও দূতাবাস বন্ধে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রদান করেন। এ ছাড়াও ব্যবসায়ীদের ফ্রান্সের পণ্য দোকান থেকে ‘ফেলে দেওয়ার’ আহ্বান জানান।

এর আগে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচির মিছিল শুরু হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন হেফাজতের শীর্ষনেতা এই নেতা আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

দুপুর পৌনে ১টার দিকে লাখো জনতার মিছিলটি বেইলি রোড়ের সামনে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়।

পরে হেফাজতের নেতারা সেখানে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। বক্তব্যে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, “এ আগুন নেভাতে হলে সারা বিশ্বের মুসলমানের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে ফ্রান্সকে।” ঢাকায় ফ্রান্সের দূতাবাস বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আন্দোলনের পর আমরা সরকারের কার্যক্রম দেখতে চাই।” সরকার ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে দলীয় সিদ্ধান্তে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান। এসময় মুনাজাতের মধ্য দিয়ে ঘেরাও মিছিল সমাপ্ত করেন হেফাজতের ঢাকার শীর্ষনেতা নূর হোসেন কাসেমী।

মুনাজাতে হেফাজত নেতাকর্মীদের পাশাপাশি  আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।

ভোর ৬টা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হেফাজতের কর্মীরা বায়তুল মোকাররম মসজিদে জড়ো হতে শুরু করেন।

বেলা ১১টায় সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিজয়নগর, প্রেসক্লাব থেকে পল্টন, গুলিস্তান সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়।

বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান, পল্টন, প্রেসক্লাব, কাকরাইল ও শন্তিনগরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় প্রচুর সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া সকাল থেকে ঢাকায় হেফাজত নেতাকর্মীদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রবেশের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

লেখকঃ বার্তা সম্পাদক, দৈনিক প্রভাতের ডাক।