শিক্ষা উপমন্ত্রীকে সাবধান করলেন মুফতী লুতফর রহমান ফরায়েজী

0
6

 

মুফতী লুতফর রহমান ফরায়েজীঃ

ঘার মটকে দেবার হুমকিদাতাদের প্রতি আমাদের দীপ্ত কথন!

রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে তৌহিদি জনতা ঐক্য পরিষদের গত শুক্রবারের এক সমাবেশ থেকে ধোলাইপাড়ে ভাস্কর্য নামের মূর্তি স্থাপন বিরোধী আন্দোলনকারী উলামাগণকে উদ্দেশ্য করে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন,
‘দেখলাম, একটি খুব ছোট মৌলবাদি দলের নেতা দাঁড়িয়ে মঞ্চ কাঁপাচ্ছিলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়েও কথা বলছিলেন। মঞ্চ কাঁপিয়ে, ভয়-ডর সৃষ্টি করে বড় গলায় যারা কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই- মঞ্চ বেশি কাঁপাবেন না। মঞ্চ বেশি কাঁপালে পায়ের নিচের মাটিও নরম হয়ে যাবে।’
তিনি আরো বলেন,
‘সময় থাকতে সাবধান হয়ে যান, মৌলবাদের জায়গা এই বাংলাদেশ নয়।’
আরো বলেন,
‘মঞ্চ কাঁপিয়ে বেশি কথা বলা এই বাংলাদেশে আমরা সহ্য করবো না। যেখানে আছেন, যতটুকু বলেছেন, ক্ষমা চেয়ে সাবধান হয়ে যান, নয়তো ঘাড় মটকে দিতে বেশি সময় লাগবে না।’ [সূত্র, বাংলা ট্রিবিউন]

তিনি দাবী করেছেনঃ
১- খুব ছোট এক মৌলবাদী দলের নেতা।
২- মঞ্চ না কাঁপাতে, কাঁপালে পায়ের তলায় মাটি থাকবে না।
৩- সাবধান হতে হবে, মৌলবাদের জায়গা বাংলাদেশে নেই।
৪- ক্ষমা চেয়ে সাবধান হতে হবে, নতুবা ঘার মটকে দেবেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্মানিত নায়েবে আমীর, জননন্দিত নেতা মাওলানা ফয়জুল কারীম দামাত বারাকাতুহুর বক্তব্যকে সরাসরি টার্গেট করে নওফেল সাহেব উপরোক্ত হুমকি ধামকিগুলো প্রদান করেছেন।

আমরা বলতে চাই!


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি এতো ছোট দলই হয়, তাহলে আপনার এতো ভীতির কারণ কী?

ভাস্কর্যের নামে মূর্তি নির্মাণের হিন্দু সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি প্রচারের পক্ষে আপনি ও আপনারা মঞ্চ কাঁপাতে পারলে মুসলমানরা কেন মঞ্চ কাঁপাতে পারবে না?
নাকি দেশটা আপনাদের পৌত্রিক সম্পদ?

যদি মৌলবাদের যায়গা বাংলাদেশে না হয়, তাহলে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে স্বাধীনতার আন্দোলনে নামা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে মূর্তি স্থাপনকারীদের যায়গা ঠিক কতটুকু আছে?

ঘার মটকে দেবার ডায়লগ দিতে শুনেছি সন্ত্রাসীদের, কিংবা তেঁতুল গাছের পেত্নীকে।
এখন যেহেতু এ স্লোগান জনপ্রতিনিধির মুখে শুনতে পাচ্ছি তখনতো বলতেই হয়, আমাদের প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূর্তি বিরোধীতা করার কারণে তার ঘার মটকে দেবার হুমকি দিয়েছিল মুশরিকরা।
ইতিহাস সাক্ষী, মূর্তির পক্ষাবলম্বনকারীরা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। মূর্তি বিরোধী প্রিয় নবীজি ও তার সাহাবীগণ মানুষের মন ও মননে, ভালোবাসায় জিন্দা আছেন আপন মহিমায়। থাকবেন চিরকাল ইনশাআল্লাহ।

সুতরাং সাবধান আমরা নই। আপনাদের হওয়া উচিত।