এখন ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন করতে পারবে খুচরা বিক্রেতারাও

0
1

সোমবার (১৬ নভেম্বর ) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট বাণিজ্যিক ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সেবা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছে।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সেবা সবার কাছে পৌঁছে দিতে নতুন সেবা চালুর সুযোগ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যার মাধ্যমে এখন থেকে হকার-ফেরিওয়ালাসহ খুচরা পণ্য বিক্রেতারা কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত সেবার লেনদেনও নগদ টাকার পরিবর্তে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে করতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ফলে এখন থেকে শ্রমনির্ভর অতিক্ষুদ্র বা ভাসমান উদ্যোক্তা, প্রান্তিক পেশায় নিয়োজিত পণ্য বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারীরাও এ ধরনের হিসাবের মাধ্যমে কেনাবেচা করতে পারবেন।

অর্থাৎ সুপারশপ, শপিংমল ও বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মতো ছোট খুচরা বিক্রেতা থেকে ফুটপাতে ফল, মাছ পণ্য বিক্রি করছেন অথবা রিকশা চালিয়ে সেবা দিচ্ছেন তারাও চাইলে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তির নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবে।

বর্তমান ব্যবস্থায় ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবসায়িক লেনদেনের সুযোগ নেই। কারণ ব্যক্তি অ্যাকাউন্টে দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক লেনদেনের সীমা বেধে দেয়া থাকে, তার বেশি লেনদেন করতে গেলে ঝামেলা পোহাতে হয়।

আবার ব্যবসায়িক হিসাব খুলতে গেলে টিআইএন, ট্রেড লাইসেন্স বা বাড়ি ভাড়ার প্রমাণপত্র দেখাতে হয়, যা ক্ষুদ্র বা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এ ধরনের উদ্যোক্তাদের খুচরা কেনাকাটার লেনদেন সম্পন্ন করতে ‘ব্যক্তিক রিটেইল হিসাব’ নামে নতুন এক ধরনের হিসাব খোলার সুযোগ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দেশের যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফসএস) কোম্পানি এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারে এই হিসাব খোলা যাবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, উদ্যোক্তারা ব্যাংক বা এজেন্ট ব্যাংকিং পয়েন্টে খোলা চলতি হিসাবের মাধ্যমেও লেনদেন করতে পারবেন। যাদের হিসাব নেই তাদের ক্ষেত্রে চলতি হিসাব খুলে এ ধরনের রিটেইল ব্যাংকিং সুবিধা দেয়া যাবে। এক্ষেত্রে কোনো লেনদেন সীমা থাকবে না।

তবে ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (গ্রাহক তথ্য) দিয়ে খোলা হিসাবে মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা লেনদেন করা যাবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা পেশাজীবী সমিতির দেয়া প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে ব্যাংক বা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নিজস্ব কর্মকর্তার সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে এ হিসাব খুলতে হবে।

মোবাইল ব্যাংকিং সেবার আওতায় এ ধরনের হিসাব খোলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের মাধ্যমে এ হিসাব খোলা যাবে না। মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কর্মকর্তার সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে হিসাব খুলতে হবে।

এ ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পেমেন্ট নিতে পারবেন। নিজের ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর করতে পারবেন। তবে এই হিসাবে নগদ টাকা জমা, অন্য কারো হিসাবে টাকা পাঠানো, ব্যাংক থেকে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে টাকা আনা যাবে না।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন এ ধরনের হিসাবে ৩০ হাজার টাকা বিক্রয়মূল্য সংগ্রহ করতে পারবে। মাসে এই সীমা ৫ লাখ টাকা। মাসে পাইকারের পাওনা পরিশোধ করা যাবে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা।

এছাড়া মোবাইল ওয়ালেট সেবার আওতায়ও এ ধরনের হিসাব খোলা যাবে। সেখানেও মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা লেনদেন করা যাবে।