জমি লিখে নিয়ে অসহায় বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় দুই ছেলে

0
10

 

জমি লিখে নেওয়ার পর অসহায় বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল দুই ছেলে। পরে নিরূপায় হয়ে তারা ঠাঁই নিয়েছিল খোলা আকাশের নিচে।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) গ্রামবাসী জোর করে বাবা-মাকে শেষপর্যন্ত ছোট ছেলের বাড়িতে তুলে দেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছোট ছেলের ঘরের একটি কক্ষে তাদের থাকতে দেয়া হয়েছে। তবে আশ্রয় মিললেও তাদেরকে মেরে ফেলতে পারেন তার ছেলে ও ছেলের বউরা এমন ভয়ে ভিত মা মেহেরুন বেগম।

শনিবার (২১ নভেম্বর) বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের কামুটিয়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজির্ন অবস্থায় ছোট ছেলের ঘরের একটি কক্ষে মেঝেতে শুয়ে আছেন বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া আব্দুল খালেক (৭০) এবং পাশে বসেই কাঁদছেন মেহেরুন বেগম (৬৫)।

মেহেরুণ বেগমের সাথে কথা বলতে গেলেই জোড়া হাতে অনুনয় বিনয় করে বলেন, কিছু কইয়া হারুমনা, আমগো মাইরা হালাইবো, বাবা তোমরা যাওগা। এমনটা বলতেই ছোট ছেলে কাদেরের স্ত্রী ঐ কক্ষে ঢুকে প্রতিবেদকের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কি চান, ওনারা কি কইবো, যা কওয়ার তাতো কাইল সামবাদিকগো কইছেই, এহন আমার কতা হুনুন।

তিনি বলেন, শশুরের (আব্দুল খালেক) বাড়ি প্রথমে আমাগো গেদির বাবা ও তার চাচা (বাবুল) দুজনের নামে লিখে দেন। আমার স্বামী তার অংশ বিক্রি করে বর্তমানে যে বাড়িতে আছি এখানে বাড়ি করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঐ বাড়ির যায়গা প্রতি শতাংশ দেড় লাখ টাকা করে স্থানীয় একজন কিনতে রাজি হয়। তখন আমার শাশুরী (মেহেরুন বেগম) আমার স্বামীকে বলেন, বাড়ির যায়গাটি তার বড় ছেলের কাছে বিক্রি করতে হবে। তারসাথে এবং আমার ভাসুর (বাবুল) এর সাথে মৌখিক চুক্তি হয়, যতদিন শশুর-শাশুরী জীবিত থাকবেন ততদিন ঐ বাড়িতে তারা বসবাস করবেন। এ রকম চুক্তির পর প্রতি শতাংশে ৪০ হাজার টাকা কমে ভাসুরের নামে লিখে দেন আমার স্বামী। তবে এখন গ্রামের মানুষ জোর করে যে আমাদের বাড়িতে রেখে গেল। আমরাই খাবার দাবার দিতেছি। তবে শশুর শাশুরীতো আমার একার নয়, দুজনকে সমান খরচ বহন করার দাবি করেন তিনি।