মূর্তি ও ভাস্কর্য নিয়ে গোলাম রাব্বানীর ফতোয়া

0
25

 

কোনো প্রাণীর-মূর্তি ও ভাস্কর্য নির্মাণ করা ইসলামী শরীয়তে কঠিন কবীরা গুনাহ ও হারাম হলেও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলছেন ভিন্ন কথা। তার ভাষ্যমতে মূর্তি বানিয়ে কুর্নিশ করা আর ভাস্কর্য নির্মাণ এক না। সম্প্রতি গোলাম রাব্বানী ভাস্কর্য ও মূর্তির পার্থক্য করে এমনই এক ফতোয়া পোস্ট করেছেন তার ফেসবুক পেইজে।

তিনি লিখেছেন, ‘মূর্তি বানিয়ে তাকে সৃষ্টিকর্তা ভাবা, পূজা করা, কুর্নিশ করা (নাউজুবিল্লাহ, সরাসরি শিরক!) আর বিশ্বের বুকে একটা নতুন মানচিত্র ও জাতি রাষ্ট্রের জন্ম দেওয়া আদর্শিক পিতার অসামান্য অবদান ও মহান স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান জানিয়ে তাঁর শৈল্পিক ভাস্কর্য নির্মাণ যে এক জিনিস না, এটা যেকোনো বোধসম্পন্ন মুসলমানের মতো মামুনুল হক নিজেও বেশ জানেন ও বোঝেন। স্রেফ এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের অনুভূতিকে হীন রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করতেই এই জামায়াত নেত্রীর স্বামী ও জামায়াত রুকনের জামাই অবান্তর প্রলাপ বকে চলেছেন!

আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী করিম (সা.) বিদায় হজ্বের ভাষণে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে স্পষ্ট বারণ করেছেন। সীমা লঙ্ঘনকারীকে কিন্তু স্বয়ং আল্লাহও পছন্দ করেন নাহ! তিনি যে গর্হিত ভাষায় ও টোনে বক্তব্য দেন, তা শিষ্টাচার বহির্ভূত ধৃষ্টতা, সরাসরি রাষ্ট্র দ্রোহিতার শামিল। এটা কোনভাবেই একজন সহীহ দ্বীনি আলেমের বক্তব্য হতে পারে না।

অনতিবিলম্ব এই লেবাসধারী ধর্ম ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক, আর ধর্মীয় উগ্রবাদিতা ছড়ানোর অপচেষ্টায় রত খেলাফত মজলিসকে মামুনুলের মতো সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী নেতাদের প্রভাবমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রতি আহবান থাকবে, এই (অ)ভদ্রলোক ও তার অনুসারীদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করা হোক। খেলাফত মজলিস জামায়াতের সমর্থনপুষ্ট এবং এ অংশটি থেকেই কওমী মাদ্রাসায় জঙ্গিবাদের সূচনা হয়। হরকাতুল জেহাদের নেতারা আগে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। গ্রেনেড হামলায় যুক্ত জঙ্গি মুফতি শহিদুলের নেতৃত্বে এই মামুনুল হকরাই মোহাম্মদপুরের মাদ্রাসা দখল করেছিল, যা দ্রুত দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব বলে মনে করি।

খেলাফত-হেফাজতের বিরাট জমায়েতের মূল রহস্য হচ্ছে, নিয়ন্ত্রাধীন সকল মাদ্রাসার ছাত্রদের তাদের ঘোষিত সমাবেশে আসতে বাধ্য করা হয়। তাই, মাদ্রাসার ছাত্রদের কোনো সমাবেশে নেয়া যাবে না- এই মর্মে নির্দেশনা জারি করা আবশ্যক।

আর আল্লাহর ঘর, পবিত্রতম স্থান মসজিদ কেন্দ্রীক যেকোনো মিটিং-মিছিল বন্ধ করতে হবে। শুক্রবার আসলে নামাজ শেষ হওয়ার আগেই এরা ব্যানার ফেস্টুন হাতে মসজিদের দরজায় ও গেটে দাঁড়িয়ে যায়, আর সাধারণ মানুষ মসজিদ থেকে বের হওয়া প্রায় সকল মুসল্লীকে এসব উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কর্মী সমর্থক ভেবে ভুল করে।’