করোনা কালে যুক্তরাজ্যের ৪০ হাজার কোটি পাউন্ডের ঋণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

0
5

এ বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলার পর সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে গোটা দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। স্থবির করে দেয় জনজীবন অর্থনীতি। স্থবির হওয়া এই অর্থনীতিতে টিকে থাকার লড়াইয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ দুই প্রান্তিকের চেয়ে একমাস বেশি সময়ের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেছে ব্রিটেন।

এ সময় দেশটি ২১ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ড ঋণ করে। পুরো অর্থবছরের জন্য মোট ৪০ হাজার কোটি পাউন্ডের ঋণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ব্রিটিশ সরকার। বাকি পাঁচ মাসে মোট ঋণের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সীমিত রাখাটা বরিস জনসন প্রশাসনের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে দ্যা গার্ডিয়ান।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে, অক্টোবরে যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি পাউন্ড, যা দেশটির বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের ১০০ দশমিক ৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে এ হার ছিল ১০১ দশমিক ২ শতাংশ, যা ১৯৬০-৬১ অর্থবছরের পর সর্বোচ্চ। তৃতীয় প্রান্তিকে যদি ব্রিটিশ অর্থনীতি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়, তবে জিডিপির বিপরীতে ঋণের অনুপাত কিছুটা কমবে।

চলতি অর্থবছরে যে ৪০ হাজার কোটি পাউন্ড ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার, তা দেশটির অর্থনীতির আকারের অনুপাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ। অক্টোবরে যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রি সেপ্টেম্বরের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ২৫ নভেম্বর ঋণসংক্রান্ত নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করবে অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি। এ সময়ে আগামী অর্থবছরের জন্য নতুন ব্যয় পরিকল্পনারও ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক।

এক বিবৃতিতে সুনাক বলেছেন, ‘একটা বিষয় পরিষ্কার যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি ব্যয় যেন টেকসই গতিপথে অগ্রসর হয়, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

ব্রিটিশ সরকার এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে স্নায়ুযুদ্ধের পর সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় বৃদ্ধির অনুমোদন দিতে যাচ্ছে তারা। এদিকে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শিক্ষক ও পুলিশের বেতন কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঋষি সুনাক। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তা ব্যয় জিডিপির দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।