কর্মশূন্য শত শত জেলে পরিবার,সেচ নির্ভর চাষিরা বেকায়দায়

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ   তিস্তা নদীতে পানি না থাকায় তিস্তা নদী মরি গেইছে(গেছে)। এলা(এখন) মাছ ও ধরা হয় না।ছোয়া পোয়া গুলা নিয়া সমস্যায় পড়ি গেছি।কাজ কর্ম নাই কি আর করি খাই।এতক্ষন যে কথা গুলো শুনলেন এ কথা গুলো হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা পাড়ের এলাকার জেলে মিজানুর মিয়া বলেছেন।

তিস্তা নদী মরি যাওয়াতে হামা গুলা শুষ্ক মৌসুমে ইরি-বোরো চাষ করতে পারি না। হামা আবাদ না করলে খামো(খাবো) কি।
এভাবে কথা গুলো হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা পাড়ের এলাকার কৃষক নুরনবী সরকার বলেছেন।

লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদী শুকিয়ে এখন ধূ-ধূ বালু চরে পরিনত হযেছে । ফলে এর প্রভাব পড়েছে এ অঞ্চলের পরিবেশ ও গোটা কৃষি সেক্টরে। পানি না থাকায় চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কাজেও মারাত্বকভাবে বিঘ্ন ঘটছে নদী সংলগ্ন চরাঞ্চলের কৃষকদের। মৃতপ্রায় তিস্তা মরা খালে পরিনত হওয়ায় ১৯৭৯ সালের ১২ডিসেম্বর প্রায় ১হাজার৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে নির্মিত লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী নামক স্থানে তিস্তা নদীর ওপর দেশের বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে এটি কোন কাজে লাগছেনা এ অঞ্চলের কৃষকদের । আর কৃষকদের সাথে সাথে নদীতে পানি না থাকায় জেলে পরিবার গুলো বিপাকেপড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর বন্যা মৌসুমে অধিক পরিমান বালু-পলি জমায় এবং তিস্তা নদী নিয়মিত ড্রেজিং না করায় এবং ভারত পানি বন্টন চুক্তি লঙ্ঘন করায় প্রায় প্রতি বছরেই তিস্তা নদীতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। একারণে তারা শুষ্ক মৌসুমে ইরি-বোরো চাষ করতে পারে না। পড়ছে সংসার নিয়ে বিপাকে।

অপরদিকে নদী চরাঞ্চলের শত শত জেলের ভাগ্যে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন। তিস্তা নদী শুকিয়ে যাওয়ায় তাদের রুজির পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে।

এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে আগামী ৮থেকে ১০ বছরেই তিস্তা নদী মরাখালে পরিনত হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় পরিবেশবিদরা। তাদের মত তিস্তা নদীর উজানে ভারতের গজল ডোবায় বাঁধ নির্মাণ করায় তিস্তা নদী ক্রমেই তার নাব্যতা হারিয়ে মরা তিস্তায় পরিনত হওয়ায় নদী লাগোয়া লাখ লাখ মানুষের জীবনে বর্তমানে নেমে এসেছে হাহাকার অবস্থা।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যারাজ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতি এ মৌসুমে তিস্তা নদীর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিস্তা নদীতে বর্তমানে অল্প পরিমান পানি রয়েছে বলে জানান ওই প্রকৌশলী।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী নামক স্থানে তিস্তা নদীর উপর প্রায় ১৫শত কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা সেচ প্রকল্প ’তিস্তা ব্যারাজ’ নির্মাণ করেন। এ প্রকল্পের উত্তরের ৮টি জেলার ৩৫টি উপজেলার প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমি ইরি-বোরো মৌসুমে সেচের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।কিন্ত তিস্তা ব্যারাজের ১শ কি.মি. উজানে ভারত গজলডোবায় এক বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকে দেওয়ার কারণে গোটা প্রকল্পে ভাটা পড়ে। পরে মাত্র ৬৫ হাজার হেক্টর জমি নিয়ে সেচ প্রকল্প কার্যক্রম শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্ত তাও পানির অভাবে প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে তিস্তা পাড়ের হাজার হাজার হেক্টর জমি ইরি-বোরো মৌসুমে পতিত থাকে। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের যেখানে ২০ হাজার কিউসেক পানির প্রয়োজন সেখানে বাংলাদেশ পায় মাত্র ৪শ’ কিউসেক।