ধানক্ষেতের মাঝে আইল দিয়ে লাউ চাষ

0
19

প্রতি বছর লাউ চাষকারীর সংখ্যা বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর মাচার ওপর লাউ চাষ হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। উপজেলার ১২ ইউনিয়নের প্রায় সবগুলোতে চাষিরা লাউ চাষ করছেন।

হালুয়াঘাট উপজেলায় ধানক্ষেতের ওপর মাচা দিয়ে লাউ চাষে চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে দিনদিন। কয়েক বছর ধরে ধানক্ষেতের মাঝে আইল দিয়ে লাউ চাষ করছেন চাষিরা। এতে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা।

তবে হালুয়াঘাটের পাহাড়ি সীমান্তের চার নম্বর ইউনিয়নের গোবরাকুরা গ্রামে এর সংখ্যা বেশি এবং সফলতাও আসছে বেশ। উপজেলার বিলডোরা, ধুরাইল, গোবরাকুরা ইউনিয়নের অধিকাংশ মাঠেই লাউ চাষ করা হয়েছে।

গোবরাকুরা ইউনিয়নের চাষি আবুল কালাম বলেন, ৬০ শতক জমিতে ধান চাষ করি। ৫-৬ বছর ধানকাটার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে ক্ষেতের মাঝে আইল দিয়ে মাচার ওপর লাউ চাষ করে লাভবান হচ্ছি।

স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষি অফিসের লোক বছরখানেক পর পর খবর নিতে আসেন। এছাড়া তাদের দেখা যায় না।

একই ইউনিয়নের চাষি শামীম মিয়া বলেন, মাচায় লাউ চাষে তুলনামূলক খরচ কম। এভাবে লাউ চাষ করলে ফলন বেশি হয়। ধান চাষেও তেমন ক্ষতি হয় না।

তিনি আরও বলেন, ধানক্ষেতে লাউ চাষে মাচা করতে বেশ খরচ হয়। তবে সেচ, সার ও কীটনাশক অন্য ফসলের মতো প্রয়োগ করতে হয় না। ফলে গড় খরচ কম হওয়ায় চাষিরা লাউ চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, ৭-৮ বছর আগে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে ধানকাটার ১৫-২০ দিন আগে ক্ষেতে আইল দিয়ে মাচার ওপর লাউ চাষ শুরু করেন। বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৫৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে একইভাবে লাউ চাষ করছেন চাষিরা।

চাষিরা কৃষি অফিসের সহযোগিতা পাচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের মাঠকর্মীরা ভালো কাজ করছেন। যদি কেউ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করে থাকেন তাহলে না জেনে করেছেন।

তিনি আরও বলেন, চাষিরা এই পদ্ধতিতে লাউ চাষ শুরু করেছেন। লাল তীর ও হাজারি দুই জাতের লাউ চাষ বেশি হচ্ছে বর্তমানে। কৃষকরা যাতে আরও বেশি চাষে মনোযোগী হন সেজন্য কৃষি অফিস কাজ করে যাচ্ছে।