ঈমানী মৃত্যুর কতিপয় আমল

0
412

মুফতী মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ হাবিবঃ মৃত্যু আতঙ্কের বিষয় নয়, বরং আনন্দের। তবে কর্মদোষে কারো জন্য আতঙ্কজনক হবে। মুমীনের জন্য মৃত্যু একটি উপহার স্বরুপ। এ উপহার গ্রহণের মাধ্যমে সে জান্নাতের বাসিন্দা হয়ে যাবে। হাদীসে এ বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে। পক্ষান্তরে পাপিষ্ঠের জন্য মৃত্যু হবে বড়ই ভয়ানক ও কষ্টের।

জন্মিলে মরিতে হয়’ – মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে না চাইলেও। -বিখ্যাত এই উক্তির বাস্তবতা নিয়ে কারো কোনো মতবিরোধ নেই। মাওলানা হাকীম মুহাম্মাদ আখতার রহ. ঈমানের সহিত মৃত্যুর জন্য সাতটি আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

এক. অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি থেকে পানাহ চেয়ে দোয়া। এই উদ্দেশ্যে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর বিনয় ও মিনতি ভরে এই দোয়া পড়া যেতে পারে:
উচ্চারণ : রব্বানা লা তুযিগ কুলূবানা বা‘দা ইজ হাদাইতানা, ওয়া হাব লানা মিল্ লাদুনকা রাহমাহ, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহ্হাব।

অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা! হেদায়াত দান করার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করে দেবেন না। আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে বিশেষ রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনিই সব পরম দাতা।

দুই. আল্লাহর রহমতের উসিলা দিয়ে দোয়া করা। এই উদ্দেশ্যে নিচের দোয়টি করা যেতে পারে।
উচ্চারণ : ইয়া হাইয়্যু, ইয়া ক্বাইয়্যূমু, বিরাহমাতিকা আছ্তাগীছু।

অর্থ : হে চিরঞ্জীব! হে চীরস্থায়ী! (যার বরকতে বিশ্বের সব কিছুর জীবন, জগতের প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুর অস্তিত্ব যার দয়ার উপরই নির্ভরশীল) তোমার রহমতেই ফরিয়াদ করছি।

যখনই কোন বিষয় নবী সা. কে অস্থির করে তুলত বা কষ্ট দিত তখনই তিনি বলতেন- “ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যূম, বিরাহমাতিকা আছতাগীছু”। (মেশকাত : ২১৬)

তিন. মিসওয়াক করা। মিসওয়াকের অন্যতম ফায়দা হলো, এই আমলের দ্বারা মৃত্যুর সময় কালিমায়ে শাহাদাত স্মরণ হয়। (শামী ১/১৮৫)

চার. ঈমানের শুকরিয়া আদায় করা। যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদের নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দিব। (ইবরাহীম: ৭) এই আয়াত দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, ঈমানের শুকরিয়া আদায় শুধু এর স্থায়িত্বই নয়, এর উন্নতিরও মাধ্যম।

পাঁচ. কুদৃষ্টি হতে বেঁচে থাকা। কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকলে ঈমানী স্বাদ অনুভূত হওয়ার ওয়াদা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন- নিশ্চয় কুদৃষ্টি ইবলিসের একটি বিষাক্ত তীর। যে ব্যক্তি আমার ভয়ে নিজ দৃষ্টিকে সংযত রাখে, আমি তাকে এমন ঈমান দান করব যার স্বাদ সে তার অন্তরে অনুভব করবে। (আলজামেউল কাবীর ৬৩৭)

ছয়. আযানের পর এই দোয়া পাঠ করা। একে উসীলার দোয়া বলা হয়। আযানের বাক্যসমূহের জবাব দেওয়ার পর আযান শেষ হলে দরূদ শরীফ পড়ে উসীলার দোয়াটি পড়তে হয়। দোয়াটি হলো-
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দা‘ওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস্ সালাতিল ক্বা-ইমাহ আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াছীলাতা ওয়াল ফাদীলাহ, ওয়াবআছহু মাক্বামাম মাহমূদানিল­যী ওয়া‘আদতাহ, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মীআদ। (বুখারী: ৬১৪)

রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন- যে ব্যাক্তি আজান শুনে এই দুয়া করে- ‘হে আল্লাহ-এ পরিপূর্ণ আহবান ও নামাজে প্রতিষ্ঠিত মালিক…। কিয়ামতের দিন সে আমার শাফাআত লাভের অধিকারী হবে। (বুখারী:৬১৪)
সাত. আল্লাহ ওয়ালাদের মহব্বত করা এবং তাদের সাহচর্যে থাকা । আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই কেবল আল্লাহ ওয়ালাদের সংস্রবে থাকা এবং তাদের মহব্বত করা উচিৎ। এই আমলটি দ্বারা যে হুসনে খাতেমাহ বা মৃত্যুর ফায়সালা নির্ধারিত হয়, তা বুখারী শরীফের দুটি বর্ণনা দ্বারাও জানা যায়।

লেখকঃ সাংবাদিক, গভেষক।