দাঁতের যত্নে মিসওয়াকের গুরুত্ব

0
425

 

মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ হাবিব

সুস্থ ও পরিষ্কার ঝকঝকে মুক্তার মত উজ্জ্বল দাঁত সকলেরই পছন্দ। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে ফ্লোরাইড ও অন্যান্য উদ্ভিদ জাতীয় পদার্থ দাঁত ও মাড়ী সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বাজারের সকল টুথপেষ্ট ও টুথ পাউডার প্রস্তুতকারক কোম্পানী ও সকল দ্রব্যে ফ্লোরাইড ও মাউথওয়াস ব্যবহার করে থাকেন। আমরা এ সকল দ্রব্য অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে বরং অনেক ক্ষেত্রে গর্বের সাথে ব্যবহার করে থাকি।

অথচ ফ্লোরাইডসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান মিসওয়াকের মধ্যে অকৃত্রিমভাবে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান রয়েছে। যার দরুন মিসওয়াক হিসেবে ব্যবহার করার জন্য হাদীস শরীফে যে সকল গাছের কথা উল্লেখ আছে, ইদানিং সে সকল গাছের পাতা ও শিকড় এবং অন্যান্য অংশ দিয়ে টুথ পাউডার ও টুথপেস্ট তৈরি হচ্ছে। ভারতের বালসারা হাইজিন প্রোডাক্টস লি: বোম্বাই ‘মিসওয়াক’ নামে একটি হারবাল জাতীয় টুথপেস্ট তৈরি করেছে, যা মিসওয়াকের জন্য ব্যবহৃত বৃক্ষ হতে তৈরি।

মিসওয়াক এমন একটি সুন্নাত, যার প্রতি মহানবী সা. সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন।
আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন, তোমরা মিসওয়াক কর। নিশ্চয়ই মিসওয়াক মুখ পরিষ্কারকারী ও আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ। যখনই জিবরীল আমার নিকট আসেন, তখনই আমাকে মিসওয়াক করার জন্য বলেন। এমনকি আমি ভয় করি যে, আমার ও আমার উম্মতের উপর তা ফরয করা হয় কি-না। আমার উম্মতের উপর কঠিন হয়ে যাওয়ার ভয় না করলে মিসওয়াক করা আমি উম্মতের উপর ফরয করে দিতাম। আমি মিসওয়াক করতেই থাকি এমনকি আশংকা করি যে, আমি হয়ত আমার মুখের সামনের দিক ক্ষয় করে ফেলব। ইবনু মাজাহ হা/২৮৯, পৃঃ ২৫; আহমাদ হা/২২৩২৩; ত্বাবারাণী কাবীর হা/৭৭৯৬; মিশকাত হা/৩৮৬, পৃঃ ৪৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৩৫৬, ২/৭৫ পৃঃ; মুন্তাখাব হাদীস, পৃঃ ২৯৮।

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ছালাত মিসওয়াক করে আদায় করা হয়, সেই ছালাতে মিসওয়াক করা বিহীন ছালাতের চেয়ে ৭০ গুণ বেশী নেকী হয়। বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/১৫৯, ১ম খন্ড, পৃঃ ৬১-৬২; হাকেম হা/৫১৫; ইবনু খুযায়মাহ হা/১৩৭; মিশকাত হা/৩৮৯, পৃঃ ৪৫।

এমনকি প্রায় প্রতিটি হাদীসের কিতাবেই ‘মিসওয়াক অধ্যায়’ নামে স্বতন্ত্র একটি অধ্যায় রয়েছে। আর এভাবে মিসওয়াকের জন্য গুরুত্বারোপের কারণ হল, বার বার মিসওয়াক করার মাধ্যমে দাঁতের হিফাযতের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা মিসওয়াক থেকে স্বাভাবিকভাবেই পূর্ণ হয়ে যাবে। মহানবী সা. ঘুম থেকে উঠার পর, সকল নামাযের পূর্বে, খানা খাওয়ার পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে মিসওয়াক করার হুকুম দিয়েছেন। আজকের স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের শ্লোগানও তাই যে, খাওয়ার পরে ও ঘুমানোর পূর্বে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা একান্ত জরুরী।

লেখকঃ সাংবাদিক, কলামিস্ট।