হুন্ডি ব্যবসা বন্ধে কড়া আইন প্রণয়ন করা উচিত

0
598

হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারের ঘটনা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। বিদেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে স্বজনদের কাছে যে রেমিট্যান্স পাঠান তার এক বড় অংশ আসছে হুন্ডির মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে টাকা না আসায় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়লেও রেমিট্যান্স আয় বাড়ার বদলে কমছে। ফলে দেশে দেখা দিয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা বিশেষত ডলার সংকট।

দেশের অর্থনীতি তেজি অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও টাকার বিপরীতে ডলারের দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ব্যাংকগুলো আমদানিকারকদের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত ডলার সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে। এমনকি ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের সংকট তৈরি হচ্ছে। ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে বিনিয়োগ। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় হুন্ডির মাত্রা বেড়েছে। এর পাশাপাশি অবৈধ পথে দেশের টাকা বিদেশে পাঠিয়ে মালয়েশিয়া, কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম গড়ে তুলছেন নানা পেশার অসৎ লোকেরা।

ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টিগ্রিটির প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যমতে, মুদ্রা পাচারকারী ১০০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪০তম। এ অকাম্য অবস্থার উত্তরণে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা তৎপর হওয়ায় দেশের অর্থনীতির জন্য বিপদ ডেকে আনছে।

হুন্ডির ছোবল ঠেকাতে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স বৈধ পথে আনার ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাঠাতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমতি নিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। কিন্তু বিভিন্ন ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্টরা বিদেশি হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলেমিশে যেভাবে অর্থ পাঠানোর কাজ করছে, তা অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ।

এ বিষয়ে সরকারকে কড়া হতে হবে। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে হুন্ডি বন্ধে কড়া নজরদারির বিকল্প নেই। দেশে পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ যাতে ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে আসে তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিদেশে প্রতি বছর যে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে তা দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে যে অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যায় তা রোধ এবং ওই অর্থ দেশে বিনিয়োগ হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। হুন্ডি ব্যবসা বন্ধে কড়া আইন প্রণয়ন করা উচিত।