আজ কবির জন্মদিন

0
220
মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ হাবিব, স্টাফ রিপোর্টারঃ
সত্তর দশকের অন্যতম কবি নাজমুল হক নজীর এর ৬৩ তম জন্মদিন আজ। আধুনিক বাংলা কাব্যের স্লোগানের এই কবি ১৯৫৫ সালের ২৫ শে সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলার শিয়ালদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
বাঙ্গালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী এই কবি তাঁর কবিতায় খোঁদাই করেছেন মুক্তিযুদ্ধের গৌরব গাঁথা এবং তাঁর “কালো জোছনার এক চুমুক” কাব্যগ্রন্থে তুলে ধরেছেন ১৯৭১ সালের যুদ্ধদিনের বর্ণনা ।
এছাড়াও আত্মমগ্ন, শিল্পিত-সৌকর্যে ভিন্ন ধরনের জীবনানুভূতির ও স্লোগানের কবি নাজমুল হক নজীর এর কবিতায় উঠে এসেছে রোমান্টিকতা, দ্রোহ চিন্তা, গভীর জীবনবোধ এবং যাপিত জীবনের নানা অনুসঙ্গ।
নাজমুল হক নজীর শুধু কবিতায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি লিখেছেন প্রবন্ধ, গল্প ও গান। সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন প্রায় চার দশক সময়কাল। অভিনয় করেছেন বেশকিছু যাত্রাপালায়।
কবির লেখা আয়নায় আপন অবয়ব, নোনা জলের বাসিন্দা, ভোর হতে আর কতোক্ষণ, প্রেমের দাবিতে বলছি কবিতাগুলো নব উদ্যমে জাগ্রত করে যে কোন পাঠককে। কবি’র সবচেয়ে আলোচিত কাব্যগ্রন্থ “নোনা জলের বাসিন্দা। এছাড়া “স্বৈরিণী স্বদেশ”, “কালো জোছনার এক চুমুক”, “কার কাছে বলে যাই”, “ঘুরে দাঁড়াই স্বপ্ন পুরুষ”, “স্বপ্ন বাড়ি অবিরাম”, “এভাবে অবাধ্য রঙিন”,“ভিটেমাটি স্বরগ্রাম”ও ‘বকুল ভেজা পথঘাট’ প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ।
“সাধনার ফসল”, “আবার শ্লোগান”, “ইষ্টি কুটুম মিষ্টি কুটুম” কবি’র ছড়ার বই এবং সম্পাদিত গ্রন্থ- গাজী খোরশেদুজ্জামানের কিশোর কবিতা এছাড়া লিখেছেন ফরিদপুর অঞ্চরের ইতিহাস বিষয়ক গবেষণা গ্রন্থ- “আমাদের ফরিদপুর-১ অঞ্চল”।
কবি’র ৯টি কাব্যগ্রন্থ, ৩টি ছড়ার বই, ১টি ইতিহাস গ্রন্থ, ১টি সম্পাদিত গ্রন্থ, নির্বাচিত কবিতা ও কবিতা সমগ্র প্রকাশিত হয়েছে।
সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীদের মধ্যে মতুয়া মতবাদে অনুসারীগণের জন্য কবি বেশকিছু গান লিখেছেন। জীবদ্দশায় কবি’র শ্রেষ্ঠ সম্মাননা- ভারত থেকে রাহিলা সাহিত্য পুরস্কার এছাড়া কবি শামসুর রাহমান স্মৃতি পুরস্কার, কবি খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার, কবি গোবিন্দ চন্দ্র দাস স্মৃতি পদক, শ্রী হরিদর্শন পুরস্কার, আমীর প্রকাশন সাহিত্য পুরস্কার,গীতিকার ক্লাব সম্মাননা, এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন সম্মাননা, মেরিট অব ডিএক্স পুরস্কার, নির্ণয় কবি বাবু ফরিদী স্মৃতি পদক, মির্জা আবুল হোসেন পদক প্রভৃতি। এছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংস্কৃতিসেবী হিসেবে নিয়মিত মাসিক সম্মানি ভাতা পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৩ শে নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। কবি নাজমুল হক দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। প্রিয় এই কবির ৬৩তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।