অনাচারের প্যান্ডোরার বাক্স খুলে যাওয়াতে সরকার এখন দিশেহারা-রিজভী

0
468

ঢাকা প্রতিনিধিঃ   বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের  মুখপাত্র, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য উস্কানিমূলক ও সংঘাতপূর্ণ।

এমন বক্তব্য থেকে সরে আসতে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

সমাবেশের প্রস্তুতি পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অংশগ্রহণ করবে জনগণ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় একটা গণসমাবেশ হয়, সেই প্রক্রিয়াই করেছি। আমরা পুলিশকে চিঠি দিয়েছি, গণপূর্ত কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। আমরা তো কোথাও বলিনি, কোনো হুমকির কথা, কিন্তু আওয়ামী মন্ত্রীদের মুখ থেকে দখল করে নেয়া হবে, পা-হাত ভেঙে দেয়া হবে এসব শোনা যায়’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিইউয়র্কে সব দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে নির্বাচন করবেন বলেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে। কিন্তু তিনি সত্য বলেননি। দেশে তার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। তিনি একদলীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু তা করতে পারবেন না। জনগণ তা হতে দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘যখন বিদেশ যান, তখন মুখে মধু অন্তরে বিষটা ঠিকই থাকে তার। ক্ষমতায় থাকতে চান, এ কারণে যা করা দরকার গণতন্ত্র, ভোট সবই তিনি আজিমপুর বা কোনো গোরস্থানে পাঠিয়ে দিতে চান।’

রিজভী আরো বলেন, ‘বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলা সরকার গুম, বেআইনি হত্যা, নির্দেশ মানুষদের গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হয়রানির কোনো কিছুই বাদ দিচ্ছে না। এরা মানবাধিকারকে পায়ে দলতে যে দ্বিধা করে না, তার বহু তথ্য সাবেক প্রধান বিচারপতির লেখা বই থেকে পাওয়া যাচ্ছে। সাগর-রুনী হত্যার এখনও কুল-কিনারা করতে পারেনি, অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে- এসকে সিনহা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন- সাগর-রুনী হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানেন। আসলে অনাচারের প্যান্ডোরার বাক্স খুলে যাওয়াতে সরকার এখন দিশেহারা।’

এ সময় রিজভী আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রকে দিয়েই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বোমা হামলার মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বিরোধী দল ও মতকে নির্মূলের চূড়ান্ত সীমায় উপনীত হয়েছে। ২১ আগস্ট বোমা হামলায় হীন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রতিহিংসার মনোভাব নিয়েই মাঠে নেমেছে সরকার। তারেক রহমানকে ফাঁসাতেই হবে, এই প্রতিহিংসা চরিতার্থের জন্যই ক্ষমতা হাতে পেয়েই বেছে আনা হয় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতা কাহার আকন্দকে। তাকে দিয়ে তারেক রহমানের নাম বোমা হামলায় জড়ানো হয়েছে।’

সে সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসাইন, আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি৷ সহ দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ।