জেলে খালেদার মৃত্যু হলে সরকারকে দায়দায়িত্ব বহন করতে হবে- কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

0
492

মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধিঃ  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ‘তাকে যে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে এটা এক ধরনের নির্যাতন। সেখানে তিনি দিনদিন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। সুচিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে না। এমনকি তার মৃত্যুও হতে পারে। সেজন্য সরকারকে দায়দায়িত্ব বহন করতে হবে। আজ ৯ জুন ২০১৮ রোজ শনিবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে রাজনৈতিক নেতাদরে সম্মানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) আয়োজিত ইফতারে তিনি এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অলি আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ইফতার করি। কিন্তু এবছর তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন তিনি দ্রুত মুক্তি পান। আমরা খবর পেয়েছি তিনি মাইল্ড স্ট্রোকে আক্রান্ত। সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। আমরা সরকারকে বলবো, তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। তাকে মুক্তি দেয়ার ব্যবস্থা করুন।’
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিগত দশ বছরে যারা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লুট করেছে সেই লুটের টাকা পূরণ করার জন্য সরকারি ব্যাংকগুলোতে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এটা জনগণের টাকা। সরকারের কোনো অধিকার নেই জনগণের টাকা দিয়ে লুটপাটের টাকা পূরণ করার।’
বাজেটে নতুন কোনো বিনিয়োগের সুখবর রাখা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটাও বাস্তবসম্মত নয়। যুবসমাজের কর্মসংস্থানের কথা নেই। তারা মূলত মেগা প্রকল্প নিয়েছে যার টাকা যায় বড়লোকের পকেটে।‘দশ বছরে কারা শেয়ারবাজার লুট করেছে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, তাদের গুলি করে হত্যার কোনো ব্যবস্থা নেই। অথচ দশটা ইয়াবার ব্যবসায়ী বা বহনকারীদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।’
গরিব মানুষদের গুলি করে না মেরে মাদকের সঙ্গে জড়িত সরকারি দলের এমপিদের গুলি করা উচিত বলেও দাবি করেন কর্নেল (অব.) অলি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য যে কর্মসূচি আপনারা দেবেন আমরা তা অতীতের মতো পালন করবো। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যা যা করতে হয় আমরা তাই করবো।’

এলডিপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমের সঞ্চালনায় ইফতারে স্বাগত বক্তব্য দেন এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ।

এলডিপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ।

উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারোওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিনের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ইসলঅমী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান এডভোকেট এম এ রকিব, কল্যাণ পার্টি মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, খেলাফত মজলিশ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শফিকউদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব শেখ গোলাম আজগর, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বিএমএল মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বিজেপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মতিন সাউদ, ডিএল সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, লেবার পার্টি (একাংশ) মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, ইসলামিক পার্টি মহাসচিব এডভোকেট আবুল কাশেম, বিএনপি নির্বাহী সদস্য আবু নাসের মুহম্মদ রহমাতুল্লাহ, এডভোকেট কামরুল ইসলাম স্বজল, ন্যাপ মহানগর সদস্য সচিব মো. শহীদুননবী ডাবলু, সাবেক ছাত্রনেতা এম.এন শাওন সাদেকী প্রমুখ।

আরো উপস্থিত ছিলেন এলডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য ইবরামিম খলিলি, আবদুল গনি, যুগ্ম মহাসচিব তমিজউদ্দিন টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ বাশার প্রমুখ।

ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।