নওগাঁয় এক হাজার চাল কলের উৎপাদন বন্ধ

0
678

আশরাফুল ইসলাম নয়নঃ নওগাঁ জেলার প্রায় সাড়ে ৯০০ চালকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ভারত থেকে অপ্রয়োজনে চাল আমদানির কারণে স্থানীয় চালকল মালিকেরা উৎপাদিত পণ্যের বাজারদর হারানোর ফলে চালকলগুলোর উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রায় ৫০০ কোটি কোটি টাকার ঋণের বোঝা বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। নওগাঁ জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ আজ রোববার এক সংবাদসম্মেলনে এ তথ্য দেন।

রবিবার বেলা ১১ টায় নওগাঁ শহরের আলুপট্টি এলাকায়চাউল কল মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।নওগাঁ জেলা চালকল শিল্পের বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি এশিল্পকে বাঁচাতে চালের আমদানি শূন্যের কোটার নামিয়ে আনা এবংসরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংকঋণে সবোর্চ্চ সুদ ৯ শতাংশবাস্তবায়ন করার দাবি জানান জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপেরসভাপতি রফিকুল ইসলাম।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলাচাউল কল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার, সাবেকসভাপতি তৌফিকুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মোত্তালেবহোসেন ও আব্দুল জব্বার, অর্থ সম্পাদক মাহবুবুল আলম প্রমুখ।লিখিত বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগেরকারণে দেশে ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি হয়।

সে সময় চাল আমদানির ওপরআমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করে চালআমদানি করে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা করা হয়। কিন্তু বিগত ইরি-বোরোও আউশ মৌসুমে দেশে বিপুল পরিমাণ ধানের উৎপাদন হওয়ায় দেশে পর্যাপ্তধান-চালের মজুদ গড়ে ওঠেছে। কিন্তু এখনও প্রতিবেশি দেশ হতে চালেরআমদানি অব্যাহত আছে। এ অবস্থায় দেশে উৎপাদিত চালের বাজার মূল্যপ্রতিনিয়ত কমছে। এতে কৃষকের পাশাপাশি চালকল মালিকেরাআর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে বর্তামনে দেশীয় চালের ক্রেতা নেই বললেই চলে।চালকল গুদামে বিপুল পরিমাণ চাল মজুদ থাকলেও ক্রেতা না থাকায় চাল বিক্রিকরতে পারছেন মালিকেরা। এ অবস্থায় জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ (প্রায় একহাজার) চালকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এই মূহূর্তে চালের আমদানিশূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা না হলে কৃষিভিত্তিক এই শিল্প পুরোপুরিধ্বংস হয়ে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কৃষিভিত্তিক শিল কলকারখানার জন্য ব্যাংক ঋণেরসুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হওয়ার কথা। দুই দফা সময় বাড়িয়েওব্যাংকগুলো সরকারের গৃহীত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন না। ব্যাংকগুলোপূর্বের ন্যায় ব্যাংকঋণে সুদের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বহাল রেখেছে।

কমবেশি সব চালকল মালিকই ব্যাংকে জামানত রেখে প্রায় ৫০০ কোটিটাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। চাল আমদানির কারণে চালের মূল্য কমে যাওয়ায় চালকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঋণের পরিশোধ করানিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সংবাদ সম্মেলনের পর দুপুরে চাল আমদানি শূন্যের কোটায় নামিয়েআনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রী স্মারকলিপিপ্রদান করেন জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের প্রতিনিধিরা। দুপুরে নওগাঁরজেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান এ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।