শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে আগাম দুর্গাপূজা

0
434

নকুল দেবনাথ (নান্টু), মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: অশুভ শক্তির বিনাশ আর দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি কামনায় মৌলভীবাজার জেলায়  ৯৯৫ পূজা মান্ডপের মধ্যে একটি মন্ডপে শুরু হয়েছে আগাম নবদূর্গা পূজা।  বুধবার  ১০ অক্টোবর থেকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের ইছামতী চা-বাগানের শ্রীশ্রী মঙ্গলচন্ডী সেবাশ্রমে শুরু হয়েছে দেবীদূর্গার পূজা।

দেবীপুরাণ চন্ডির বর্ণনানুযায়ী দশভোজা দেবীর ৯টি রূপের কাঠাম তৈরী করে এ পূজার আয়োজন করা হয়েছে। আর দেবীর এই নবরুপে ৮ম বারের মতো পূজার আয়োজন করে প্রায় ৫শত বছরের প্রাচীন দেবস্থলী মঙ্গলচন্ডি থলির পূজা কমিটি। ব্যাতিক্রমী এ পূজা দেখতে হাজারো ভক্তরা ভীড় করছেন সেখানে। বৈদিক বিধান অনুযায়ী দেবী দূর্গার রয়েছে ৯টি রূপ। প্রথম দিন দেবীর শ্রীশ্রীশৈলপুত্রী মাতা রূপে পূজা করা হয়। এভাবে শ্রীশ্রীব্রক্ষচারিণী মাতা, শ্রীশ্রীচন্দ্রঘন্টা মাতা, শ্রীশ্রীকুস্মান্ডা মাতা, শ্রীশ্রীস্কন্দ মাতা, শ্রীশ্রীকাত্যায়নী মাতা, শ্রীশ্রীকালরাত্রী মাতা,  শ্রী শ্রীমহাগৌরি ও শ্রীশ্রীসিদ্ধিধাত্রী মাতা রূপে দেবী দূর্গার পূজা করা হবে। ভক্তবৃন্দরা জানান, আমরা মায়ের কাছে আসি আর্শীবাদ নেওয়ার জন্য এবং সমাজে যেন কোন অশুভ শক্তি বিরাজ না করে সেই জন্য মায়ের কাছে প্রার্থনা করি।

প্রথম দিন দেবীর শ্রীশ্রীশৈলপুত্রী মাতা, রুপে পূজা করা হয়। এভাবে আগামী দশমী তিথি পর্যন্ত দেবীর ব্রম্মচারিনী, কুস্মান্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রী, মহাগৌরি, চন্দ্রঘন্টা ও  সিদ্ধিধাত্রী রূপে পূজা করা হবে। ব্যতিক্রমী এ পূজা দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনাথীরা ভীড় করছেন। বসেছে দোকান পাঠ। ঢাক-ঢোল,শংখ ধ্বনী আর ভক্তদের আগমনে উৎসব মূখর হয়ে উঠেছে মঙ্গলচন্ডী মন্দির। আগামী  ১৯ অক্টোবর দশমী তিথিতে শোভা যাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এই নবদূর্গা পূজা। দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় এই পূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানালেন আয়োজকরা। নবদূর্গা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বজিৎ দেব জানান, আমরা এই বৎসর ৮ম বারের মতো মঙ্গলচন্ডী সেবাশ্রমে নবদুর্গা পূজার আয়োজন করেছি। নয় দিনব্যাপি পূজা অর্চনা হয়। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মধ্যে আমরাই এখানে নবদুর্গার পূজার আয়োজন করে থাকি।

এখানে সিলেট অঞ্চল তথা সারা দেশের মানুষের সমাগম হয় এবং প্রচুর আনন্দ ফুর্তি হয়। পূজায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ৯দিন ব্যাপী এ পূজা মৌলভীবাজারবাসীর কাছে যোগ হয়েছে যেমন নতুনমাত্রা। তেমনি এটি জগতের মঙ্গল বয়ে আনবে এমনটা আশা পূজারীদের। সারাদেশের অনান্য মন্ডপে পুজা শুরু হবে আগামী ১৫ অক্টোবর আর শেষ হবে ১৯ অক্টোবর। কিন্তু এ মন্ডপে পূজা শুরু হয় ১০ অক্টোবর থেকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ, শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার দপ্তর সম্পাদক নকুল দেবনাথ (নান্টু) বলেন, শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাপূজা মূলত দশ দিনের উৎসব। শুরু হয় দেবীপক্ষে, শুরুর পর্বের নাম ‘মহালয়া’, মহালয়াতে দেবীদুর্গাকে পিত্রালয়ে আবাহন জানানো হয়। মহালয়ার পরের দিন দ্বিতীয়া, এভাবেই তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এবং দশমী।

এ দশ দিনের মধ্যে মহালয়া এবং সপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী এবং দশমী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহালয়া দিয়ে শুরু, দশমীতে এসে শেষ। বিজয়া দশমী হচ্ছে দেবীদুর্গাকে ঘটা করে বিদায় সংবর্ধনা জানানো, পিত্রালয় থেকে চোখের জলে ভেসে দেবীর স্বামীগৃহে প্রত্যাবর্তনের দিন। দশমীতে ভক্তকুলের মনে বিষাদের ছায়া নেমে আসে, স্বর্গ থেকে মা এসেছিলেন তার সন্তানদের মাঝে, মা আবার ফিরে যাবেন স্বর্গে, ভেবে ভক্তকুলের চোখ ভিজে ওঠে, মন ভারি হয়। মা’কে কপালে সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে, ধানদুর্বা, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনিতে চারদিক মাতিয়ে তুলে, চোখের জলে ভেসে এয়োস্ত্রীরা মা’কে প্রণাম করে মায়ের চরণে সিঁদুরের কৌটা ছুঁইয়ে স্বামী সন্তানের মঙ্গল প্রার্থনা করে। এরপরই দেবীমূর্তিকে খোলা ট্রাকে বসিয়ে ধূপ ধুনো জ্বালিয়ে ভক্তদের শোভাযাত্রা বের হয়।